অতিথিদের সাথে একটি বড় প্রোগ্রাম পরিচালনা করতে গিয়ে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে পার করা অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন।
অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন নিয়ে ব্যক্তিগত দিনলিপিতে লিখে রাখছি অভিজ্ঞতার অনুভূতির কথা। যেই দিনগুলোর মুহূর্ত ভুলে যাবার মতো নয় সেই দিনগুলোর পাতায় রয়ে যাবে এই স্মৃতিগুলো।
হয়তোবা লিখাটিতে কিছুটা আনন্দের অনুভূতি চোখে পড়বে, কিন্তু মনের মাঝে প্রতিটি মুহূর্তে ছিল উৎকণ্ঠা। অভিজ্ঞতার দিনলিপির প্রতিটি দিনই ছিল শিক্ষামূলক ও রোমাঞ্চকর।
সূচিপত্র
সূচনা
২০২৪ সালের জুলাই মাসটি আমার কর্মজীবনের অন্যতম ব্যস্ততম সময় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। আন্তর্জাতিক এনজিওতে কর্মরত থাকার সুবাদে বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অতিথিদের সাথে একটি বড় প্রোগ্রামের আয়োজন করতে গিয়ে আমি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি, তা আমার জীবনে যেমনটা অনেক শিক্ষামূলক তেমনটা অনিশ্চয়তাময়।
অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন
আমি একটি আন্তর্জাতিক এন জি ও তে কর্মরত আছি। ২০২৪ সালের জুলাই মাসের ১৭ তারিখ থেকে ১৯ তারিখ পর্যন্ত বিদেশী অংশগ্রহণকারীদের সাথে নিয়ে একটি অনেক বড় প্রোগ্রাম আয়োজিত হবে। যেখানে অনেক গুরুত্বপুর্ন ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন। সেই উদ্দেশ্যে এই কয়দিনের জন্য সংস্থায় কর্মরত প্রত্যেককে কিছু কিছু দায়িত্ব নিতে হয়েছে। প্রোগ্রামের প্রতিটি অংশ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে আলাদা করে কমিটি করা হয়েছে।
সেই তালিকাকৃত ইভেন্ট সমূহের মধ্যে আমার দায়িত্ত্ব ছিল দুইটি। প্রথমটি ছিল আমার এক সহকর্মী এর সাথে অন্যান্য সংস্থা, অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয় এর পক্ষ থেকে থাকা টিম একসাথে অংশগ্রহণকারীদের হোটেলে স্বাগতম জানিয়ে তাদের থাকবার রুমগুলো কনফার্ম করা। এর পাশাপাশি ইভেন্ট শেষে প্রত্যেকের ফ্লাইট এর সময় অনুযায়ী হোটেল থেকে এয়ারপোর্ট এ যাবার গাড়ি ঠিক আছে কিনা এবং সিকিউরিটি ব্যবস্থা ঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করে তাদেরকে এয়ারপোর্টে পাঠিয়ে দেয়া। আরেকটি হচ্ছে সাইড ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট টিমের সদস্য হিসেবে ইভেন্টগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা হচ্ছে কিনা তা মনিটর করে ইভেন্টগুলো সঠিকভাবে শেষ করা।
১৬ জুলাই, ২০২৪
অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন এর মধ্যে প্রথমদিন ছিল ১৬ তারিখ, ২০২৪। এই দিন অনেক অংশগ্রহণকারী নিজ দেশ থেকে ঢাকায় আসে। তাদেরকে আমি এবং আমার এক সহকর্মী রিসিভ করার জন্য সকাল ১০ টায় অফিস থেকে বেরিয়ে হোটেলে চলে যাই। তখন দেশের পরিস্থিতি ভালো যাচ্ছিল না। চাকরি এর ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি সংস্কার এর জন্য আন্দোলন চলছিল। আমাদের অফিসের একজন সহকর্মীর গাড়ি নিয়ে যেতে হয়েছিল। কারণ তখন উবার কিংবা অন্যান্য অ্যাপ থেকে রেসপন্স পাওয়া যাচ্ছিল না।
হোটেলে পৌঁছে আমরা এই কার্যক্রমের সাথে জড়িত টিমের সকলের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করি। তাদের সহায়তা করে সকল অতিথির আগমন কনফার্ম করে নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আপডেট দিতে থাকি। প্রথমদিন মাত্র ৭/৮ জনকে রিসিভ করতে হয়েছিল। রিসিভ করার মাঝে দুপুরের খাবার এর জন্য বাইরে গিয়ে আমি এবং আমার সহকর্মী বাইরে গিয়ে খেয়ে আসলাম। কারণ হোটেলের খাবার এর মূল্য অনেক বেশি ছিল।
বাইরে বের হয়ে অনেক সাবধানে যেতে থাকলাম। কারণ সময় দুপুর ৩ টা হলেও পরিস্থিতি থমথমে ছিল। প্রথমে একটি রেস্টুরেস্ট এ গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে শুনি যে দুপুরের খাবারের সময় শেষ। এরপর সেখান থেকে বের হয়ে এগিয়ে যেতে থাকি। রাস্তা পার হয়ে যেতেই দেখতে পাই একটি সনামধন্য স্কুলের সামনে ছাত্রীরা কোটা পদ্ধতি সংস্কার এর আন্দোলনে সহমত পোষণ করে অবস্থান করছিল। সেই স্থান পার হয়ে আমরা একটি রেস্টুরেন্টে গিয়ে দ্রুত খাওয়া শেষ করে আবার হোটেলে ফিরে যাই কারণ আমাদেরকে একজন বিশেষ অতিথিকে স্বাগতম জানাতে হবে যিনি আমাদের সংস্থার একজন বিশেষ ব্যক্তি।
তাকে রিসিভ করে আমরা সন্ধ্যায় ঊর্ধ্বতন টিমকে জানিয়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেই। আমার এবং আমার কলিগের বাসা প্রায় কাছাকাছি তাই একই সি এন জি অটোরিকশায় রওনা হই। বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায় ৮ টা ৩০ বেজে যায়। রাতে ঠিকমত ঘুম হলো না।
১৭ জুলাই, ২০২৪
অনিশ্চয়তার মাঝে কাটানো ৫ টি দিনের মধ্যে এটি দ্বিতীয় দিন। এই দিন সকালে উঠে দ্রুত গোসল ও খাওয়া দাওয়া সেরে তৈরি হয়ে যাই। নিজেদের গাড়িতে চড়ে সকাল ৯ টা বাজবার পূর্বেই অফিসে চলে যাই। যাবার সময় সাথে ব্লেজার নিয়ে যাই কারণ ওইদিন রাতেই প্রোগ্রামের ওয়েলকাম ডিনার অনুষ্ঠিত হবার কথা। অফিসে কিছু পরিকল্পনা নিয়ে সকলের সাথে কথা বলে আলোচনা করে নেই। অফিসে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে আমার টিমের সহকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে যাই। হোটেলের কাছাকাছি গিয়ে হতবাক হয়ে যাই।
চারিদিকে আন্দোলনকারী ও আন্দোলনকারীদের বিপক্ষে অবস্থান করা ব্যক্তিরা উপস্থিত হয়ে অর্ধেক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তার এক কোনায় গাড়ি থেকে নেমে ড্রাইভারকে বললাম বাসায় ফিরে যেতে। কারণ সময়টা নিরাপদ না। হোটেলে ফিরে আমাদের প্রায় ১৫ জন অতিথিকে রিসিভ করতে হয়েছে। এরপর সন্ধ্যায় ওয়েলকাম ডিনার এর আয়োজন এ উপস্থিত হয়ে সবকিছু ঠিকভাবে ম্যানেজ করে আমরা প্রোগ্রাম শেষে খাওয়া দাওয়া করে যার যার মতো বাসায় ফিরে যাই। অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন এর মধ্যে এই দিনটি তুলনামুলক কম কষ্টকর মনে হলেও বাসায় পৌঁছাবার আগ পর্যন্ত নিরাপদ বোধ করছিলাম না।
১৮ জুলাই, ২০২৪
এইদিন আমার দায়িত্ত্ব ছিল গেস্টদের সকলে প্রোগ্রামে যাবার জন্য বাসে চড়েছে কিনা তা নিশ্চিত করা। যদিও কয়েকজনকে হোটেলের রিসিপশন থেকে কল করেও পাওয়া যায় নি। তাদেরকে না পেয়ে বাকিদের সাথে নিয়ে আমরা ভেন্যু তে উপস্থিত হই। সেখানে সকলকে নিয়ে প্রবেশ করে সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠান শেষে বিকাল ৬ টায় বাসে চড়তে সকলকে অনুরোধ জানিয়ে বের হয়ে দেখি আকাশে কালো ধোয়া। জানতে পারি যে, দুর্বৃত্তরা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতিকে ভিন্ন দিকে নেবার চেষ্টা করছে। তবুও কার কথায় বিশ্বাস রাখবো সেটি নিয়েও আমরা ছিলাম এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তার মাঝে।
বিষয়টা নিয়ে সকলে বেশ চিন্তিত হয়ে গেল। সবাই ভাবছিল যে কিভাবে হোটেলে পৌঁছাবে? কিভাবে পরের দিন প্রোগ্রাম হবে? এরকম আরো অনেক প্রশ্ন। বিদেশিদের সুরক্ষায় প্রোটোকল সুনিশ্চিত করে বাস দুটি নিরাপত্তা বাহিনীর পেছনে পেছনে দ্রুত হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা করে। নিরাপদে সবাই হোটেলে পৌঁছে একটু চিন্তামুক্ত হয়। তবে দুঃখের বিষয় অজানা কারণে কোথাও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক কাজ করছিল না। পরে জানা যায় সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দেশব্যাপী ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
বাহিরের পরিস্থিতি থমথমে থাকায় কেউ বের হয়ে বাসায় যাবার কথা ভাবতেও পারছিল না। তবে আমি মনে মনে ভেবে রেখেছিলাম যে রাত ১১ টায় বের হয়ে যাবো। কিন্তু বাসা থেকে খবর পেলাম যে, বাসার কাছাকাছি এলাকায় পরিস্থিতি খুব ভয়ংকর। তাই সেই প্ল্যান বাতিল করে রাতে হোটেলে থাকবার জন্য অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের থেকে অনুমতি ও সাহায্য নিয়ে হোটেলেই একটি রুম নিয়ে নিলাম।
রাতের খাবার টা অসাধারণ ছিল। একটি ছোট বাফেট ছিল হোটেলে থাকা প্রোগ্রামের বক্তা ও সিনিয়র অথরিটি এর জন্য এবং সাথে আমরা আয়োজক হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম। পরের দিন সকাল ৯ টায় অতিথি বক্তাদের নিয়ে বাসে চড়ে ভেন্যু তে যাবার পরিকল্পনা রয়েছে, যাদের ৪ টি সেশন এ বক্তব্য রাখতে হবে। তাদের আপডেট কনফার্ম করে নিলাম।
রাতে খাওয়া দাওয়া করে রুমে চেক ইন করে ফেললাম। আমার ফোন এর ব্যাটারিতে তেমন চার্জ ছিল না। ভাগ্যক্রমে আমি পূর্বে বর্তমান সংস্থার সাথে যেই প্রজেক্টে কাজ করতাম, সেই প্রজেক্টের Joint Venture হিসেবে কাজ করা একটি কোম্পানির সি ই ও এর সাথে পরিচয় থাকায় তার থেকে চার্জার নিয়ে ফোন চার্জ করে রুমে ফিরে গেলাম। রুমটি অনেক সুন্দর ছিল। তবে আমার কিছুই ভালো লাগছিল না। কিছু ছবি ও ভিডিও করে ফোনটিকে রেখে দিলাম। খুব ক্লান্ত থাকায় আর কোনো কাজ না করে ঘুমিয়ে গেলাম। অনিশ্চয়তার মাঝে কাটানো ৫ দিনের মাঝে এই দিন নিজেকে সবচাইতে একা মনে হয়েছে।
১৯ জুলাই ২০২৪
সকালে উঠে গোসল সেরে, হোটেলের রেস্টুরেন্টে নাস্তা করতে গেলাম। নাস্তা সেরে হোটেলের রিসিপশনে গিয়ে হোটেল থেকে চেক আউট করে নিলাম। তবে জানতে পারলাম পরিস্থিতি আরো প্রতিকূল হয়ে গিয়েছে। আমার সুপারভাইজার ও লিডার এর থেকে যা জানতে পারলাম ঐদিনের প্রোগ্রামে কেউ ভেন্যু তে যেতে পারবে না, কারণ বিভিন্ন এলাকা ব্লক করে দেয়া হয়েছে। তাই ভেন্যুর প্রোগ্রাম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
পরবর্তীতে আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত হলো যে, যেই প্রোগ্রামগুলো ভেন্যুতে হবার কথা সেগুলো হোটেলেই বড় একটি কনফারেন্স রুমে হবে, যেখানে প্রত্যেকে সংক্ষেপে তাদের প্রেজেন্টেশন দিবেন এবং শ্রোতাদের সাথে প্রশ্ন উত্তর সেশন খুবই সাধারণভাবে হবে। ৬ জন বিশেষ অতিথি তাদের পূর্ব নির্ধারিত বিষয়ে প্রেজেন্টেশন দিলেন। তিনজন উপস্থাপন করবার পর মাঝে একটি ছোট বিরতি দেয়া হয়েছিল। এরপর বাকিরা তাদের বিষয়ের উপর উপস্থাপনা করার পর আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোগ্রামের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
প্রোগ্রাম শেষে রাতে ছোট একটি বাফেট ডিনার এর আয়োজন করা হয়। সেখানে সকল উপস্থাপনকারী অংশগ্রহণ করেছিলেন। ডিনার শেষে বাসায় ফিরে যাবার পরিকল্পনা করতে গিয়েও বাদ দিলাম। কারণ রাত দশটায় ঘোষণা আসলো যে, কারফিউ জারি করা হয়েছে। রাত ১২ টা থেকে পরের দিন দুপুর ১২ টা পর্যন্ত টানা কারফিউ চলবে এবং এরপর দুপুর ২ টা পর্যন্ত বিরতি দেয়ার পর আবার কারফিউ জারি থাকবে। সেজন্য হোটেলে থাকা সিনিয়রদের সাথে কথা বলে হোটেলে পুনরায় চেক ইন করার সিদ্ধান্ত নিলাম।
ফোনের চার্জ ১৫ % এর ও নিচে নেমে যাওয়ায় আবার ও সেই পরিচিত স্যার এর সাহায্য নিয়ে ফোন এ চার্জ দিলাম। হোটেলের লবিতে বসে কিছু পরিচিত বিদেশিদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দিলাম। তারা জানতে চাইলো বর্তমান পরিস্থিতি ও পরবর্তী দিনের সকালে এয়ারপোর্ট এ যাবার উপায় সম্পর্কে। তাদেরকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেয়ার নিরাপত্তা সহ অন্যান্য বিষয়ে আশ্বস্ত করে ম্যানেজমেন্ট টিমের দায়িত্বে থাকা ভাইদের সাথে কথা বলে রুমে ফিরে গেলাম। নিজেকে তখন অনেক একা লাগছিল। এক অদ্ভুত অনিশ্চয়তায় নিমজ্জিত হয়ে ছিলাম। কিভাবে বাসায় পৌঁছাবো? কখন পৌঁছাবো? এসব প্রশ্ন মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল। পরে হঠাৎ ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম।
২০ জুলাই ২০২৪
সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল সেরে সকালের নাস্তা করতে গেলাম। নাস্তা শেষে সেসকল অতিথিদের ফ্লাইট সকালে ছিল তারা ঠিকমত বিমান বন্দরে পৌঁছেছে কিনা সেই আপডেট নিয়ে সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে শেয়ার করলাম। এরপর পরবর্তীতে যারা হোটেল থেকে চেকআউট করে এয়ারপোর্ট এ যাবেন তাদের লিস্ট ফাইনাল করে তাদের যাবার বিষয়ে সবকিছু কনফার্ম করে নিলাম। আর যারা ২০ তারিখেও রাত্রিতে থাকবেন তাদের নাম ও ফ্লাইট এর ডিটেইলস সংগ্রহ করার বিষয়ে ম্যানেজমেন্ট টিম কে সহায়তা করলাম।
পরিস্থিতি কিছুটা ভালো থাকবে জেনে হোটেল থেকে চেক আউট করে নিলাম। এরপর হোটেলের লবিতে অপেক্ষা করতে লাগলাম। প্রায় ১১ টা ৩০ এর মতো বেজে গেলো। বসকে ইনফর্ম করে প্রায় ১১ টা ৫০ মিনিটে বেরিয়ে গেলাম হোটেল থেকে। বের হবার সাথে সাথেই ভাগ্যক্রমে একটি সি এন জি অটোরিকশা পেয়ে গেলাম। তাকে বললাম যেভাবেই হোক, যেই দিক দিয়েই হোক আমাকে গুলশান বাড্ডা লিংক রোড এ পৌঁছে দিতে। তিনি বললেন উনি আমাকে হাতিরঝিল থেকে বের হবার রাস্তায় নামিয়ে দিবেন। আমি সাথে সাথে ওকে বলে যাত্রা শুরু করলাম। কোনো স্থানে না থেমে এক টানে পৌঁছে গেলাম হাতিরঝিল থেকে বের হবার রাস্তায়। এসে দেখি আশ পাশের অবস্থা খুব নীরব। চারিদিকে সবকিছু তছনছ হয়ে রয়েছে।
বেশ কিছু গাড়ি পুড়ে বিনষ্ট হয়ে রয়েছে। ভয়ে, ধীরে ধীরে মেইন রোডে আসলাম। এসে জিজ্ঞাসা করলাম আফতাবনগর ও বনশ্রী এর রোডের এখন কি অবস্থা? তারা বললো এখন ভালো ও নিরাপদ। তারপরও সাবধানে রাস্তা পার হয়ে একটি রিক্সায় চড়ে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। যেতে যেতে রিকশাওয়ালা ভাই এর থেকে জানলাম গত দুইদিন ঘটে যাওয়া ঘটনার কিছু গল্প। শুনে জেনে খারাপ লাগলো। সর্বোপরি দেশ টা ভালো নেই। দেশে শান্তির প্রয়োজন, সমঝোতা প্রয়োজন।
বাসায় ফিরে আসার পর পরিবারের সবাই স্বস্তি পেলো। এই দুইটি রাত যেমনটা তাদের জন্য ছিল আতঙ্কের তেমনি আমি দূরে থাকায় তাদের মনটাও ভালো ছিল না। বাসায় ফিরে অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়ে দিলাম নিরাপদে বাসায় ফিরে আসার কথা।
সমাপ্তি
এই অনিশ্চয়তার পাঁচ দিন আমার জন্য শিক্ষামূলক এবং অনিশ্চয়তাময় ছিল। এ ধরনের অভিজ্ঞতা আমি আর চাই না। প্রতিটি দিনই ছিল চ্যালেঞ্জপূর্ণ এবং মানসিকভাবে কঠিন। তবে এই অভিজ্ঞতা আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এই অভিজ্ঞতা থেকে আমি শিখেছি যে, প্রতিটি চ্যালেঞ্জ আমাদের জন্য একটি নতুন সুযোগ নিয়ে আসে এবং সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আমরা নিজেদেরকে আরও দক্ষ করে তুলতে পারি।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি
এনজিওর প্রোগ্রামগুলো কেমনভাবে পরিচালিত হয়?
এনজিওর প্রোগ্রামগুলো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রতিটি ইভেন্টের জন্য আলাদা আলাদা দল নির্ধারিত থাকে।
আপনি কিভাবে অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন?
অতিথিদের নিরাপত্তার জন্য আমরা প্রোটোকল মেনে চলেছি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহযোগিতা নিয়েছি।
আপনার প্রোগ্রামের সময় কোটা আন্দোলনের প্রভাব কেমন ছিল?
কোটা আন্দোলনের কারণে পরিস্থিতি ছিল থমথমে এবং অনিশ্চিত। তবে আমরা সকল চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে প্রোগ্রাম সম্পন্ন করেছি। কিন্তু যেভাবে প্রোগ্রাম হবার কথা ছিল সেভাবে হয়নি।
এই ধরনের প্রোগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
এই ধরনের প্রোগ্রামে কাজ করার অভিজ্ঞতা চ্যালেঞ্জপূর্ণ হলেও অনেক কিছু শেখার সুযোগ দেয়।