তোমাকে নিয়ে কিছু কথা প্রায়ই লিখি। তারপরও মনে হয় কি যেন থেকে গেলো বাকি। আজকে যেন কিছু স্মৃতি আক্ষেপের সঙ্গী হয়ে এসেছে।
তোমাকে নিয়ে কিছু কথা
তোমাকে সম্বোধন করি কিভাবে? সেটিই বুঝছি না।
সেখানে তোমাকে নিয়ে এখন কেন লিখছি আমি? আমি যে তোমার জীবনের কেউ না। তোমার জীবনের কখনোই আমি সেই মানুষটি হয়ে উঠতে পারিনি, যে তোমার জন্য বাকিটা জীবন থাকবে।
হঠাৎ করেই চোখের দেখায় কেন যেন মনে হল সবচেয়ে সুন্দর কিছুকে আমি দেখলাম। মনে হল এই মোহ শুধুমাত্র আমার জন্য। কত সুন্দর করে শুরু হয়েছিল সব কিছুর।
তুমি ছিলে আমার জীবনের এমন কেউ, যাকে শুভরাত্রি বলে ফেলার পরেও থেকে যেত অনেক কথা। একেক টি বার্তা যেন হৃদয় ছুয়ে যেত। কেউ জানতো না আমার সেই অবাক হয়ে অজান্তেই হেসে ফেলবার কারণ ছিলে তুমি। ভাবতাম, তোমাকে কখনও না দেখার পরও আমার মনের নিকট কতটা প্রিয়, বাস্তবে তুমি হয়তো আমার জন্য তার চাইতেও বেশী।
তুমি ছিলে সেই, যাকে না ভেবে আমার একটি মুহূর্ত ভালো লাগেনি। যার কষ্টের কারণগুলো আমাকে আজও ব্যথিত করে যাচ্ছে। আচ্ছা? তুমি কেমন আছো? আমার খুব জানতে ইচ্ছা হয়? তোমার শিমু কেমন আছে? সুস্থ আছে? তোমার জীবনে এগিয়ে যাবার জন্য তুমি মন থেকে যা চাও তা তুমি চেষ্টা করে পাবার জন্য এগিয়ে যাও। আমি আর তোমাকে থাকতে বলার অধিকার রাখি না।
তবে অভিমান করে একলা থেকো না। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে ঠিক রাখার জন্য তুমি ভালো লাগা গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে যাও।
আমি হয়তো আজও তোমার আক্ষেপের পর্বের এক বিশাল স্থান দখল করে থাকা কিছু পাতার অংশ। সেটি তুমি মুখে না বললেও আমি তো বুঝি। কারণ তুমি একটি বার বলেছিলে, আমরা আমাদের কি কেউ না?
আমি তখন থেকেই বিশ্বাস করি, যদি শেষ হয় ইচ্ছের তবে শুধু আমি না, একটু হলেও কষ্ট পাবে তুমি। কিন্তু আমি চাইনা এমন তুমি মনে করে থেমে থাকো। কারণ একজন বুদ্ধিহীন ছেলে তোমার জন্য যোগ্য না। যে কিনা সাহস করে নিজের মনের ইচ্ছেকে পূরন করার জন্য কিছুই করতে পারে না। এক পা এগিয়ে যেতে গিয়ে যে দুই পা পিছিয়ে যায় তাকে ভুলে যাওয়াটাই তোমার জন্য শ্রেও।
আমি পারিনি ঠিক সেভাবে সবকিছুকে পরিবর্তন করতে যেমনটা ভেবেছিলাম হবে। পারিনি ভালোবাসার সেই স্বপ্নগুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে।
কথায় আছে না, “মানুষ কল্পনায় সুখী”। আমি কল্পনাকে হয়তোবা বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এটা তো আমার পক্ষে সম্ভব হয় নি।
আমি অনেকটাই বদলে যেতে চেষ্টা করেছি। চেষ্টা করি অন্য সবার সাথে এমনভাবে কথা বলতে যেন আমি তাদের জন্য গুরুত্ত্বপূর্ন কেউ না। আমার এই খারাপ দিক টা অনেকটাই আমি বদলে ফেলতে পেরেছি কিনা বুঝে উঠতে পারি নি। আসলে নিজেকে বদলে ফেলেছি কিনা তা বুঝতে পারার জন্য কী করতে হয় জানি না।
তবে মনে হয় জীবনের কঠিন কোনো বাস্তবতায় কিংবা পূর্বে যেমন ভুল হয়েছে সেরকম ভুলের মুহূর্তগুলোর মত কিছু আসলে নিজেকে কিভাবে পূর্বের চাইতে ঠিক রাখা যায় সেটাই হয়তোবা বদলে যাবার একটি ছোট প্রমাণ।
হয়তোবা আরো বদলে গিয়ে সিদ্ধান্তও নিয়ে নিবো। তবে অপেক্ষার নাম করে আর তোমার জীবনে বাঁধা হয়ে রইবো না।
এই ছিল তোমাকে নিয়ে কিছু কথা। হয়তো নতুন করে নতুন করে কিছু স্মৃতির সঙ্গী হয়ে আসবে নতুন কথা। ততদিন না হয় ভালো থাকুক সেই দিনের কথা।
পরবর্তী চিঠি – রাগ ভাঙ্গানোর চিঠি