নীরবতা নিয়ে স্ট্যাটাস

নীরবতা নিয়ে স্ট্যাটাস লিখবার কথা মনে করে জীবনের একটা মুহূর্তের কথা মনে পড়ে গেলো।

যখন ব্যর্থতার চরম শিখরে পৌঁছে গিয়েছিলাম তখন কিছু মানুষের ব্যবহারে মনে হয়েছিল সফলতা না পাওয়ার আক্ষেপ যেন আমার দিকে চতুর্দিক থেকে কষ্ট দিচ্ছে। প্রত্যেকের প্রতিটি কথা আমাকে খুব বিরক্ত করে যাচ্ছে। তারপরও নীরবে সব সহ্য করে গিয়েছি।

নিচে কিছু নীরবতা নিয়ে স্ট্যাটাস তুলে ধরা হয়েছে। মনের কথা ও অনুভূতি এগুলো তাই অদ্ভুত মনে হলেও হতে পারে।

নীরবতা নিয়ে স্ট্যাটাস

  • নীরবতা অনুভূত হচ্ছে কেন আজ? চারিদিকে কত কথা। সবাই নিজেদের মতো করে ব্যস্ত। কেউ হাসছে, কেউ কাদঁছে।হাজারো কোলাহলের মাঝেও কিছুই ভালো লাগছে না। সবকিছুতে বিরক্তি আসছে। কিন্তু সবাই তো হাসছে। দেখে তো মনে হচ্ছে সবাই অনেক সুখে আছে। কিন্তু এদের মাঝেও হয়তো কেউ কেউ আছে যাদের অনুভূতির কথা কেউ বুঝতে পারবে না। তারা নীরবে নিভৃতে সব কিছু নিজের মাঝেই রেখে দিয়ে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছে। হাসিমুখে সে কত কিছুর সমাপ্তির সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে নিজে নিজেই। কোনো জটিলতা চায়নি সে। চায়নি সে স্বপ্নকে বাস্তবে এনে সবার সামনে অপমানিত হতে দিতে। স্বপ্নকে স্বপ্নের মতো করে ভালো থাকতে দিয়ে সে দিব্বি নিজেকে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করে যাচ্ছে।দিনের পর দিন চলে গেলো।
  • কিভাবে যেন নীরবতায় একটি বছর শেষ হয়ে গেল। সে ধরে নিয়েছে জীবনের সেই পাতায় সেই স্বপ্নকে ছাড়া আর কেউ থাকতে পারে না। তাই সে আর কোনো কিছুকেই রাখতে চায় নি। সেই স্বপ্নটি ছিল তার একমাত্র এমন কিছু যা ছাড়া সে ভাবতে পারতো না প্রতিটি দিনের শুরু কিংবা শেষ। তার মন থেকে মায়ার কান্না আসছে। কিন্তু কান্না তাকে মানায় না। কী বলবে সবাই? সবাই তো হাসবে। যার ফলে কষ্ট ও ক্ষোভ আরও বাড়বে।কী করবে সে? আজও বুঝতে পারেনি। তার চিন্তাভাবনা গুলো কারো কারো নিকট মনে হতে পারে পাগলামি।
  • কখনো কখনো জীবনে একটি বড় কষ্ট এসে আগের ছোট কোনো কষ্টের অনুভূতি কে কমিয়ে দেয়। আবার মাঝে মাঝে হঠাৎ ছোট বা বড় কোনো খুশির খবর কিংবা ভালো কিছু কষ্টের অনুভূতি কে ভুলে যেতে বাধ্য করে। আবার অন্যরকম কিছুও হয়। যেমন, কষ্টের অনুভূতি কে যত সুন্দর সুখ এসেও ভুলিয়ে দিতে পারে না। আবার সুখের আশায় বার বার হাজারো কষ্টের অনুভূতি আসলেও সুফলের আশায় মুখে হাসি রেখে ধৈর্যহারা হওয়া যায় না। এমন হয়তোবা সব রকমের মানুষের জীবনে হয় না। প্রতিটি মানুষের চিন্তা, ব্যাবহার, ধৈর্য্য, গুণ একেক রকম হয়ে থাকে। এর কারণ, সুবিধা ও অসুবিধা নিয়ে কল্পনা করা যায় না। তখন নীরবে ধৈর্য নিয়ে সহ্য করে যাওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না।
  • একজন মানুষ জীবনের প্রথম পাতায় যেমন থাকে শেষ পাতায় ঠিক তেমনটি থাকবে বলে ধরে নেয়া যায় না। পরিবর্তন খুবই স্বাভাবিক। জীবনের খারাপ সময়ে মানুষ শিখতে পারে তার ভুলগুলো কেমন? এর কারণ ও প্রতিকার নিয়ে। গুরত্বপূর্ন একটি শিক্ষা হচ্ছে মানুষের আচরণ চিনতে পারা। কোনো মানুষ কেমন তা অনেক ক্ষেত্রে বুঝতে পারা যায় জীবনের বিভিন্ন মুহূর্তে সেই মানুষের আচরণগুলো থেকে। তাদের থেকে কষ্ট পাবার পরে নীরবতা ছাড়া আর অন্য কোনো সঙ্গী পাশে রয় না।
  • কিছু ক্ষেত্রে জীবনে এমন কিছু মানুষের সাথে পরিচয় হয় যাদেরকে আমরা বুঝতে ভুল করি। হয় তারা আমাদের জীবনে কোনো খারাপ উদাহরণ রেখে যায় কিংবা ভালো একটি উদাহরণ সৃষ্টি করে আমাদের মনে জায়গা করে নেয়। কারো কাছ থেকে হঠাৎ ভালো কিছু পাওয়াও নীরবতার কারণ হয়ে যায়।
  • এই বৈচিত্র্যময় জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ার চাইতে বুঝতে পারা কিছুটা হলেও জটিল। আমাদের সবার উচিত ধৈর্য্যশীল হওয়া। কিন্তু সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠেনা। সফলতার আলো যেন একটুও দেখা দেয় না। যখন একটা সম্পর্ক সমাপ্তির দ্বারপ্রান্তে চলে যায় তখন দুটি মানুষের মন দুইদিকে চলে যায়। দুইদিক থেকে তখন শত অনুভূতির কথা বলতে চেয়েও কেউ বলতে পারে না। তখন দুটি মানুষের মাঝে নীরবতা ছাড়া আর কিছু থাকে না।
  • নীরবতা একটি অদৃশ্য সৃষ্টি, যেখানে কোন কথা থাকে না বাস্তবে। মন শুধু কথা বলে যায় আত্মার সঙ্গে।
  • নীরবতা মনের অনুভূতির এক মিছিল, যেখানে চোখের ভাষাই সবকিছু। শব্দের কোনো প্রয়োজন নেই।
  • নীরবতা এমন এক যাত্রা যেখানে সঙ্গী মন এবং বাতাস, দেখা হয় নিজের সত্ত্বার অনুভূতির সাথে।
  • নীরবতা কোন মিথ্যা নয়। এক অদৃশ্য মেধা যা জীবনের এক শক্তিশালী দিক।
  • নীরবতা জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতি। যখন মন থাকে এক অদ্ভুত পরিস্থিতিতে যা মনে থাকে চিরকাল।

এ ছিল মনের মাঝে চলে আসা নীরবতা নিয়ে স্ট্যাটাস।

আমাদের পরবর্তী লিখা – ভালোবাসা দিবসের শুভেচ্ছা ও স্ট্যাটাস

Leave a Comment