এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না

এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না। নিজের জন্যই নিজেকে সীমিত রেখেছি। যা সুখ, যা বেদনা সবই শুধু আমার নিজের মাঝেই রেখেছি।

এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না

এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না কারণ নিজেরই বিরক্ত লাগে কারোর সঙ্গ হতে। কারোর সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলার মতো মন আর নেই। নিজেকে সবার কাছে অনেক ছোট মনে হয়।

বন্ধুত্বগুলো হারিয়ে গিয়েছে কিংবা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। বন্ধুত্বের দিনগুলোর অনুভূতি আর মনের দিকে ফিরে তাকায় নি। শেষ দিকে নিজেকেই স্বার্থপর মনে হয়েছে।

জীবন এর উন্নতির তাগিদে অনেক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়েছে। খুব প্রয়োজন ছাড়া কিছু পরিচিত মুখের দেখা আর পাওয়া যায়নি। আমি হারিয়ে আছি। যারা প্রিয় ছিল হয়তোবা তারাও হারিয়ে রয়েছে। এক অদৃশ্য ব্যস্ততার জালে আমরা কতটাই না বদলে গিয়েছি!

পরিবার এর দায়িত্ব থেকে শুরু করে জীবিকার তাগিদে নিজের জীবনের সাথে এতটা একাকার হয়ে রয়েছি যে কারো সাথে দেখা হয় কালে ভদ্রে। চাইলেই হয়তো দেখা হতে পারে। কিন্তু এখন আর কিছুই ভালো লাগে না কেন যেন।

নিজেকে সময় দিতে চাই

এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না কারণ নিজের কাছে নিজেকে সময় দিতে চাই। নিজের সমস্যাগুলোকে নিজের মাঝে রেখে দিতে চাই। অন্যের কাছে হাসির পাত্র হবার চাইতে তো বুকে পাথর নিয়ে চলাই শ্রেয়। একটু মনে কষ্ট আসলেও নিজেকে গুছিয়ে নেয়ার দায়িত্ব নিজের কাঁধেই অর্পণ করি।

কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায় হঠাৎ করেই। যা ভুলে যাওয়া দরকার শুধু তাই মনে থাকে। কিন্তু যা মনে রেখে জীবনের বাকিটা পথ চলবো বলে ভেবে নেই তা বার বার ভুলে যাই।

মনে পড়ে কি? কতটা ক্লোজ ছিলাম আমরা। একে অপরকে কতটা স্ত্রাগল করতে দেখেছি ছাত্র জীবনে। কিন্তু কর্মজীবনে প্রবেশের পরে কেন আমাদের এই বদলে যাবার বাধ্যবাধকতা? কেন নেই আমাদের মাঝে সেই দিনগুলোর মতো একে অপরের সাথে কথা না বলে থাকতে পারা দিনগুলোর ভালোবাসা?

বুঝেও না বোঝার ভান করি

অনেকের মন থেকে নিজেকে হারিয়েছি। নতুন কারো সাথে পরিচিত হতে ভয় হয়। মানুষের সাথে তেমন একটা অপ্রয়োজনীয় কথা বলি না। কারো চোখে খারাপ বা ভালো সাজতে চাই না।

কারো ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে বলা মনের কথা হয়তো বুঝতে পারি। কিন্তু বুঝেও না বোঝার ভান করি। কারণ এখন আর কারো নিকট আপন হতে ভয় হয়। কারণ কারো মনের মানুষ হয়ে যাবার পরে যদি বিচ্ছেদ হয়ে যায়? যাকে আর পাওয়া হবে না হয়তো তাকে অগণিত বার্তা দিতাম। হয়তোবা সে বিরক্ত হয়ে যেত। এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না।

নিজেদের মাধ্যমে পরিচয় থেকে ভালো লাগা। এরপর ভালোলাগা থেকে গড়ে ওঠা সম্পর্কের যদি শেষ পরিণতি বিচ্ছেদই হয় তাহলে সেই মুহূর্তের অনুভূতি মেনে নেয়া কঠিন। তখন মনের মাঝে যেই অপরাধবোধ কাজ করবে তা কেউ বুঝতে পারবে না। কারণ সকল দোষে অন্য কারোর ভাগীদার হয় না।

মাঝে মাঝে মাথায় কিছু অদ্ভুত চিন্তা আসে। যেমন, ঠিকভাবে নিজেকে উপস্থাপন করা হচ্ছে কিনা বুঝতে পারি না। মনে হয় আশে পাশের সবাই ভাবে আমি কেন এমন নীরব? কথা কম বলি কেন? আমার নিজের কাছেও এর উত্তর নেই। এ নিয়ে ভাবনার যে শেষ নেই। তবে এইটুক জানি, খুব কম মানুষের সাথে কথা বললেও যাদের সাথে কথা হয় তাদেরকে খুবই কাছের কেউ মনে করি। কিন্তু এখন তাও কমে গিয়েছে।

নিজের ভাবনা নিজের কাছে

মনের যা ভাবনা তা যতটা সম্ভব নিজের জন্যই রেখে দেই। কারো সাথে কথা বলে কোনো গুরুত্ব না পাবার অনুভূতির তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেক হয়েছে। আগে ভাবতাম আমার গলার আওয়াজ হয়তোবা তাদের নিকট পৌঁছাবার মতো শক্ত নয়। কিন্তু এখন বুঝতে পারি, তাদের মন আমার কথাগুলোকে গ্রহণ করার মতো নয়। তাদের জন্য আমি গুরুত্বপূর্ণ ছিলাম না।

কোনো কারণ ছাড়া বার্তা পাঠিয়ে এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এ অনলাইনে আসলে, ছোট ছোট ভিডিও দেখি, অনেকের স্টোরি দেখি কারো কোনো মন্তব্য আসলে তার উত্তর দেই। লিখতে ভালোবাসি, প্রকৃতির দৃশ্য ধারণ করতে পছন্দ করি। ফোন টা সবসময় সাইলেন্ট মুড এ রাখতে বেশী ভালোবাসি। নীরবতা ভালো লাগে আমার।

নিজেকে একটু দূরে রাখতেই পছন্ধ করি

ভিড়, সমাগম, পুনর্মিলনি থেকে নিজেকে একটু দূরে রাখতেই পছন্ধ করি। আলো আমার লাগেনা আর ভালো। অন্ধকার ঘর এর প্রতি আমার এক অদ্ভুত ভালোবাসা জন্মে গিয়েছে। এজন্য অনেকেই অবাক হয়। কত কথা বলে যা আসলে ভালো লাগার কথা না। তবে সময়ের দেয়া শিক্ষাকে আমি গম্ভীরভাবে গ্রহণ করে নিয়েছি। নিজেকে নিজের মাঝে খুঁজে পেলেই তো নিজেকে বুঝতে পারবো।

নিজেকে আর সবাইকে ভালো রাখতে এখন আর কাউকে বিরক্ত করি না। এতে অনেকের নিকট স্বার্থপর হিসেবে পরিচিত হয়ে গিয়েছি। অনেক মন থেকে বন্ধুত্বের জায়গা হারিয়েছি। কিন্তু আমার যে আর কিছু করার ছিল না। সময় এর স্রোতের প্রভাবে যতদূর এগিয়ে চলছি প্রতিনিয়ত আমাকে বদলে যেতে হচ্ছে।

পরবর্তী লিখা – বাস্তবতা নিয়ে কিছু কথা

Leave a Comment