আমার শখ

“আমার শখ” লেখালেখি, যা আমাকে মুক্তভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে সাহায্য করে। এই শখের মাধ্যমে আমি মনের গভীরতা খুঁজে পাই এবং নিজের সত্তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করি।

সূচনা

শখ হলো এমন কিছু, যা কেবল আমাদের আনন্দ দেয় না, বরং আমাদের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন ঘটায়। এটি আমাদের সৃষ্টিশীলতা এবং মননশীলতার প্রকাশ ঘটায়, জীবনের ব্যস্ত সময়গুলোর মাঝে শান্তির ঠিকানা। আমার শখ লেখালেখি, যা আমাকে প্রতিনিয়ত এক নতুন জগতে প্রবেশ করায়, যেখানে শব্দের মাধ্যমে মনের গোপন কথা প্রকাশ করা যায়।

জীবনে প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে আমরা প্রত্যেকেই কিছু মুহূর্তের জন্য নিজের কাছে ফিরে যাই। এই ছোট্ট সময়গুলোতে আমরা যা করি, সেটাই আমাদের শখ। শখ কোনো দায়িত্ব বা বাধ্যবাধকতা নয়; এটি একান্তই আমাদের নিজস্ব একটি জগৎ, যেখানে আমরা প্রশান্তি ও আত্মতৃপ্তি খুঁজে পাই। শখ আমাদের জীবনে স্বস্তির বাতাস নিয়ে আসে এবং আমাদের মনের নানা ভাবনাকে মুক্ত করে।

আমার শখ লেখালেখি, যার মধ্য দিয়ে আমি নিজের ভেতরের আবেগ এবং অনুভূতিগুলোকে প্রকাশ করতে পারি। লেখার মাধ্যমে আমি আমার ভেতরের এক অজানা দিককে আবিষ্কার করি, এবং তা আমাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শেখায়।

আমার শখ: লেখালেখি

আমার লেখালেখির শখ কখনো বিরক্তি নিয়ে আসে না। এটা এমন একটি কাজ, যা আমাকে কখনো ক্লান্ত করে না বরং আমাকে উল্টো সতেজ করে। লেখালেখি আমার মনের এমন এক সহচর, যা একাকীত্বের সঙ্গেও বন্ধুত্ব করতে পারে। শব্দ, বাক্য আর ভাবনা নিয়ে খেলা করতে করতে, আমি নিজেকে অনেকটা নতুন করে আবিষ্কার করি।

আমার ভাবনা এবং অনুভূতিগুলো যখন কাগজে প্রকাশ পায়, তখন তা আমার মনের এক অদৃশ্য ভারকে হালকা করে। সেই মুহূর্তগুলোতে, আমি অনুভব করি, আমার লেখালেখি আমাকে সময়ের বাইরেও একটি নতুন জীবনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে আমি স্বাধীনভাবে নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে পারি।

আমার সেরা সঙ্গী

জীবনের প্রতিদিনের শত ব্যস্ততা ও দায়িত্বের মাঝেও, আমি লিখতে বসলে যেন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। কখনও কখনও আমি ভাবি, কী লিখবো, কীভাবে লিখবো। কিন্তু যখন কলম বা কিবোর্ডের সাথে মনের সংযোগ ঘটে, তখন প্রতিটা শব্দ আপনাআপনি চলে আসে। বারবার একই কথা লিখলেও, প্রতিবার তা এক নতুন রূপ নিয়ে আসে।

লেখার মাঝেই আমি নিজের আত্মাকে খুঁজে পাই। এই খোঁজার মধ্য দিয়ে আমি অনুভব করি, লেখালেখি আমার কাছে শুধু শখ নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বন্ধুত্ব ও পরিবর্তনের পথ

জীবনের চলার পথে অনেক সম্পর্ক আসে, অনেক বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু সব সম্পর্কই টেকসই হয় না। আমি নিজেও সময়ের সাথে সাথে বদলে গেছি, আমার ভাবনা এবং চাহিদা বদলেছে। অনেক বন্ধু এসেছে, আবার অনেকেই চলে গেছে। কিন্তু যারা থেকে গেছে, তারা বুঝতে পেরেছে আমার মনের ভাষা।

যারা সত্যিকার অর্থে আমাকে বোঝে, তাদের সাথে সম্পর্ক আজও টিকে আছে। তাদের সাথে কথা বলতে আমার কখনো কোনো ভাবনার দ্বিধা থাকে না। এই গভীর সম্পর্কগুলো আমাকে বুঝিয়েছে যে, বন্ধুত্ব মানে শুধু সময় কাটানো নয়, বরং একে অপরকে বুঝতে পারা।

এতো কনফিউশন আমার ভালো লাগে না। তাই লিখালিখিকে আপন করে নিয়েছি। আমার বন্ধুত্ব কম্পিউটার এর কি বোর্ড, মনিটর এবং মাউস এর সাথে।

আমার নীরব সঙ্গী

আমার লেখালেখির আরেকটি বড় অংশ জুড়ে আছে আমার ডায়েরী। ডায়েরী হচ্ছে আমার সেই নির্ভরযোগ্য সঙ্গী, যাকে আমি সব কথা খুলে বলি। আমার মনে যেসব কথা আমি অন্য কাউকে বলতে পারি না, তা ডায়েরীর পাতায় উন্মোচিত হয়।

ডায়েরীর প্রতিটি পৃষ্ঠায় আমার জীবনের একেকটি অধ্যায় লিপিবদ্ধ আছে। আমার সুখ, দুঃখ, হতাশা, আনন্দ—সবকিছুই এই নীরব সঙ্গীর সাথে ভাগাভাগি করেছি। ডায়েরী হচ্ছে এমন এক বন্ধু, যা কোনো রকম বিচার ছাড়াই আমাকে গ্রহণ করে।

জীবনের ক্ষণস্থায়ী মুহূর্তগুলো

এই অল্প সময়ের জীবনে শখ কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি আমাদের আত্মপ্রকাশের একটি বিশেষ উপায়। শখ আমাদের জীবনের ছোট ছোট আনন্দের সন্ধান করে দেয়।

আমার লেখালেখির শখ আমাকে প্রতিনিয়ত শেখায়, সময়ের সাথে কীভাবে পরিবর্তিত হতে হয়। প্রতিটি মুহূর্তই যেন আমার জন্য একটি নতুন পাঠ, যা আমাকে জীবনের গভীরতর সত্যের মুখোমুখি করে।

শেষ কথা

আমার শখ আমার জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। লেখালেখি শুধু আমার শখ নয়, এটি আমার সত্তার এক বিশেষ প্রকাশ। এটি আমাকে সময়ের সীমা অতিক্রম করে এক নতুন জগতে নিয়ে যায়, যেখানে আমি নিজের মননশীলতার গভীরে ডুবে থাকতে পারি। লেখালেখি আমার ভালোবাসা, আমার অস্তিত্ব।

আরও পড়ুন- আমাদের জীবনে যোগ্যতা

Leave a Comment