আমাদের নতুন বাংলাদেশ এর শুরু। পেছনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস, সংগ্রাম, এবং বিজয়ের গল্প।
এই আন্দোলন কিভাবে এক নতুন স্বাধীনতার পথে নিয়ে এসেছে তার বর্ণনা ও অনুভূতি নিয়ে এই ছোট।
সূচিপত্র
সূচনা এবং প্রেক্ষাপট
আমাদের নতুন বাংলাদেশ এর শুরুর স্বপ্ন বহুকাল ধরে ছিল সকলের মনে। আমরা মনের মাঝে অনেক কথা চেপে রেখেছি। ভয়ে ভয়ে নিজের মাঝে আগলে রেখেছি। কত আক্ষেপ, কত কষ্ট নিয়ে মনের কথাগুলো মুখে আসতে দেইনি। ভয়ে ভয়ে জীবনের পথে মেনে নিয়েছি কতকিছু। সবকিছু দেখেও না দেখার ভান করে দেখেছিলাম সবাই নিশ্চুপ।
ভয়ে ভয়ে কতকিছু লিখে রেখেও মুছে ফেলেছি কতবার। বাক স্বাধীনতার অভাবে মনের মাঝে রয়েছিল কত আক্ষেপ ও হাহাকার। নিজের পরিবার এর নিরাপত্তা, ও ভালোবাসার কাছে বার বার নিজের ইচ্ছা সত্ত্বেও অনেক কিছুই না হয়েছে বলা, না হয়েছে লিখা। কত কিছুকে চোখের জলে ভাসিয়ে দিতে হয়েছে। রাগে, ক্রোধে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে ছিলাম বহুদিন।
ব্যক্তিগত জীবনে যেসব কারণে মনে কষ্ট পাবার কথা ছিল, এই সময়ে সেসব কারণে কষ্ট পাইনি। কিংবা যেসব কারণে এই সময়ে খুশি হবার কথা ছিল, এই সময়ে খুশি হতে পারিনি।
তবে এই ক্ষোভ, এই ক্রোধের মুল অবসান শুরু হয়েছে জুলাই থেকে।
২০২৪ সালে বাংলাদেশে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনটি উল্লেখযোগ্য গুরুত্ব বহন করে। এই আন্দোলনটি মূলত কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হয়েছিল এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল।
২০২৪ সালের ৫ জুন, বাংলাদেশ হাইকোর্ট ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেআইনি ঘোষণা করে। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনকারীরা দাবি মেনে নিতে সরকারকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময় বেঁধে দেয়। ৩০ জুন থেকে আন্দোলন আবার শুরু হয় এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সক্রিয়ভাবে এতে অংশগ্রহণ করে।
বৈষম্য বিরোধী এই আন্দোলনে নেতৃত্বে ছিলেন প্রধানত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম উল্লেখযোগ্য। তিনি “ছাত্রশক্তি” সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব ছিলেন। তার সাথে অন্যান্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন আসাদুল্লাহ আল গালিব, নুসরাত তাবাসসুম, রাফিয়া রেহনুমা হৃদি, এবং সোহাগ মিয়া, নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ। এছাড়া, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, আব্দুল কাদের, এবং মো. আবু বাকের মজুমদারও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন।
আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল সরকারি চাকরিতে কোটার সংখ্যা হ্রাস করা। শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, জনসমাবেশ, ধর্মঘট এবং অবরোধের মাধ্যমে তাদের দাবি জানায়। আন্দোলনে নারীদের অংশগ্রহণও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা আন্দোলনের শক্তি বৃদ্ধি করেছিল এবং এর মাধ্যমে বৈষম্য বিরোধী দাবিগুলি আরো জোরালো হয়।
এই আন্দোলনটি দেশের শিক্ষার্থী সমাজে একটি বড় প্রভাব ফেলে। সরকার দাবি অনুযায়ী সঠিক সময়ে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি পূরণের জন্য আন্দোলন চালিয়ে যায়। আন্দোলনের ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ ও ধর্মঘট অনুষ্ঠিত হয় এবং শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে।
আমাদের নতুন বাংলাদেশ এর পেছনের সংগ্রাম
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনা নিয়ে এই বিবরণ। এই আন্দোলনের প্রতিটি দিন একটি নতুন অধ্যায় রচনা করেছে। আন্দোলনের সূচনা থেকে বিজয় পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা পাঠকের মনে অম্লান হয়ে থাকবে।
১ জুলাই: সূচনা
এদিন থেকে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা হয়। চার দফা দাবিতে শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে আন্দোলন শুরু করে। অনেক দিনের জমে থাকা ক্ষোভ আর কষ্টের বহিপ্রকাশ ঘটল সেদিন।
১০ জুলাই: উচ্চ আদালতের রায়
এদিন সুপ্রিম কোর্ট কোটাপদ্ধতির উপর হাইকোর্টের রায় আগস্ট ৭ পর্যন্ত স্থগিত করে। এই রায় শিক্ষার্থীদের মনোবল আরও বৃদ্ধি করে এবং মুক্তির আশার সঞ্চার করে। এই রায় যেন অন্ধকারে একটুকরো আলোর আশা জাগিয়ে তুলল। শিক্ষার্থীদের মনোবল আরও বেড়ে গেল। সকলের মনে তখন শুধু একটাই প্রশ্ন—এই রায় কি আমাদের মুক্তির পথ দেখাবে?
১৪-১৭ জুলাই: সংঘর্ষ
কোটাপদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ঢাকায় ছাত্রদের বড় আন্দোলন শুরু হয়। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের সাথে অপর পক্ষের সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
১৬ জুলাই দুপুর আড়াইটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ (২৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এর প্রতিবাদে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। যেন মনোবল আর হারানোর কিছু নেই—সবকিছু হারিয়ে নতুন করে জেগে ওঠার সময় এসেছে।
প্রতিপক্ষের আক্রমণে আমাদের হারাতে হয় মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ সহ আরও অনেককে।
ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠন, বিজিবি, র্যাব, ও পুলিশের প্রচেষ্টাসহ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ করার পরেও আন্দোলন থামাতে ব্যর্থ হলে সরকার দেশজুড়ে কারফিউ জারি করে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েন করে।
১৮-২৩ জুলাই: শাটডাউন এবং কারফিউ
সারাদেশে কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা। রাত ৯টার দিকে সরকার সারাদেশে সব ধরনের ইন্টারনেট সেবা বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এ যেন এক নতুন ধরণের দমিয়ে দেবার চেষ্টা। শিক্ষার্থীরা দমে যায়নি; বরং এক নতুন উদ্দীপনা নিয়ে সামনে এগিয়ে গেছে।
২৪-৩১ জুলাই: ইন্টারনেট ফিরে আসা, কারফিউ শিথিল হওয়া
সীমিত পর্যায়ে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট চালু হলেও মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ থাকে। কারফিউ শিথিল পর্যায়ে ছিল। বিকেল পর্যন্ত ব্রডব্যান্ডে ধীরগতির ইন্টারনেট পাওয়া যায়। সরকার ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধ রাখে। তবে আন্দোলনকারীরা মাঠে না থাকেও থেমে থাকেনি। সকলের মনে একটাই লক্ষ্য—বিজয়।
২৪ জুলাই রাত পর্যন্ত আরও ৪ জনসহ মোট ২০১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। তথ্যসুত্র – উইকিপিডিয়া-২০২৪-এ বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন
১-২ আগস্ট: আরও বিক্ষোভ
সারাদেশে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যা, গণগ্রেপ্তার, হামলা-মামলা, গুম-খুন ও শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এবং ৯ দফা দাবি আদায়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে ছাড়া পাওয়া বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ক গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেন যে আন্দোলন প্রত্যাহার করে ডিবি অফিস থেকে প্রচারিত ছয় সমন্বয়ককের ভিডিও বিবৃতি তারা স্বেচ্ছায় দেননি।
৩ আগস্ট: বিজয়ের পূর্বক্ষণ
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আন্দোলনকারীদের আলোচনার প্রস্তাব দেন, তবে দুপুরে কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম জানান সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই। এদিন শিক্ষার্থীরা এক দফা, এক দাবি নিয়ে মাঠে নামে। দাবি একটাই প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ। কারণ তিনি ব্যর্থ কিংবা দাবী পূরণে অনিচ্ছুক।
কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে রাজধানীর ধানমন্ডির রবীন্দ্রসরোবরে সংগীতশিল্পীদের প্রতিবাদী সমাবেশ হয়। বিকেল চারটার পর বিক্ষুব্ধ জনতা বিরাট মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে যাত্রা শুরু করে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ একত্র হয়।
বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহীদ মিনারে সমবেত ছাত্র-জনতার উদ্দেশে বক্তব্য দেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনটির সমন্বয়ক মো. নাহিদ ইসলাম।
৪ আগস্ট: সংঘর্ষ
৪ আগস্ট দেশের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। লক্ষ্মীপুরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বেলা ১১টার দিকে জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী থেকে ঝুমুর পর্যন্ত এলাকায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এছাড়াও, সিরাজগঞ্জ, রাজধানী ঢাকা, ফেনী, নরসিংদী, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, বগুড়া, মাগুরা, রংপুর, পাবনা, মুন্সিগঞ্জ, কুমিল্লা, শেরপুর, জয়পুরহাট, ভোলা, হবিগঞ্জ, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, সাভার, বরিশাল, কক্সবাজার এবং গাজীপুরে সংঘর্ষে বহুজন নিহত ও আহত হন।
৫ আগস্ট: বিজয় ও পুনর্জন্ম
৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির তারিখ পরিবর্তন করে ৫ আগস্ট সোমবার এ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। এতে সারা দেশ থেকে আন্দোলনকারীরা ঢাকায় আসার আহ্বান জানানো হয়।
দুপুর ১২টার দিক থেকে সরকারের নির্দেশে মোবাইল অপারেটররা দেশজুড়ে ফোর-জি নেটওয়ার্ক সেবা বন্ধ রাখে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বেলা ২টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়। সরকারকে পদত্যাগ করে ‘জাতীয় বিপর্যয়’ থেকে দেশকে রক্ষা করার আহ্বান জানায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি)।
পদত্যাগ করে বেলা ২:৩০-এ দেশ ছেড়ে চলে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার বোন শেখ রেহানার সাথে সামরিক হেলিকপ্টারে দেশত্যাগ করেন। শেখ হাসিনা যাওয়ার আগে একটি ভাষণ রেকর্ড করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সে সুযোগ পাননি। ঐ হেলিকপ্টারটি ভারতের আগরতলায় অবতরণ করে।
কেন এবং কিভাবে এই ক্ষোভ মানুষের মনে জন্ম নিল?
দেশে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা, চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য, এবং রাষ্ট্রের একচেটিয়া ক্ষমতা প্রয়োগের ফলে মানুষের মনে জন্ম নেয়া ক্ষোভ ধীরে ধীরে জমে উঠে। তরুণ সমাজের মধ্যে এই ক্ষোভ অনেক বেশি প্রকট ছিল, কারণ তারা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল। তারা দেখতে পেয়েছিল যে তাদের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে, ভালো চাকরি পাওয়ার সুযোগ কমছে, এবং তাদের মতামত প্রকাশের অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
ছাত্ররা কেন এবং কিভাবে এই আন্দোলন শুরু করলো?
তরুণ সমাজের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা এবং অসন্তোষ জমে ওঠে। তারা মনে করতে থাকে যে, নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য আন্দোলনে নামা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে থাকে, মতামত শেয়ার করতে থাকে এবং আন্দোলনের পরিকল্পনা করতে থাকে। এই প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সূচনা করে।
এই আন্দোলনে প্রবাসী ভাই বোন এবং ফ্রিলান্সার ভাইদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়।
আন্দোলনের নেতৃত্বে কারা ছিল?
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন অনেক ছাত্র ও ছাত্রী। প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল সাধারণ অনেক শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিল আসিফ মাহমুদ, আবু সাঈদ, এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নেতারা। তারা নিজেরা পরিকল্পনা করে, নেতৃত্ব দেয় এবং সকলকে একত্রিত করে আন্দোলন পরিচালনা করে।
আমাদের বর্তমান অনুভূতি
এই তো আমাদের নতুন বাংলাদেশ। আজ থেকে আমাদের অনুভূতি স্বাধীন। আজ, এখন থেকে আমরা মন খুলে সব কথা বলতে পারবো। নিজেদের ভাবনায় যাই আসুক না কেন সেগুলোকে প্রতিটি শব্দে ফুটিয়ে তুলতে পারবো। পেয়েছি আজ কাগজে কলম চালাবার স্বাধীনতা। থাকবে না আর কোন দ্বিধা দন্দ। আজ থেকে আমি মুক্ত, স্বাধীন। আজ থেকে কেউ আমাকে দাবিয়ে রাখতে পারবে না। আজ থেকে আমি ন্যায় অন্যায়ের তফাৎ বুঝতে পারবো। অন্যায় কে মেনে নিব না। আজ থেকে আমি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শিখেছি। শিখেছি প্রতিবাদ করতে। আমার এই প্রতিবাদ গুলোকে আজ থেকে আমার কলমে ধরে রাখতে শিখেছি।
ভবিষ্যতের বাংলাদেশ
আমাদের নতুন বাংলাদেশ যত্ন করে গড়ে তোলার স্বপ্ন আমাদের সবার। এই আন্দোলন আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, আমরা একসাথে মিলে একটি ন্যায়পরায়ণ সমাজ গড়তে পারি। আমাদের এই সংগ্রাম আমাদেরকে একটি নতুন, শক্তিশালী, এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে নিয়ে যাবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম এই বাংলাদেশকে আরও সুন্দর এবং উন্নত করে তুলবে।
আমাদের দেশের মানুষ এখন থেকে নিজেদের অধিকার সচেতন হবে। তারা বুঝতে পারবে যে, তাদের কথা বলার অধিকার আছে, তাদের স্বপ্ন পূরণের অধিকার আছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের এই সংগ্রাম আমাদেরকে একটি নতুন ভোরের পথে নিয়ে যাবে, যেখানে সবার অধিকার রক্ষিত হবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিকট এই মনোভাব রেখে যেতে হবে যে, অন্যায় দেখলে প্রতিবাদ করতে হবে, বাঁধা দিতে হবে।
উপসংহার
আমাদের নতুন বাংলাদেশ সবার স্বপ্ন ছিল, যা আজ বাস্তব। আমাদের এই সংগ্রাম আমাদেরকে একটি নতুন, স্বাধীন, এবং ন্যায়পরায়ণ সমাজের পথে নিয়ে যাচ্ছে। সকলকে এক নতুন ভোরের পথে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সবার অধিকার রক্ষিত হবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে। আমরা বিশ্বাস করি যে, আমাদের এই সংগ্রাম এর দ্বারা অর্জন পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।
আমাদের পরবর্তী লিখা – আজ ভালোবাসা অনুভবের দিন
সচরাচর জিজ্ঞাসাকৃত প্রশ্নাবলি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কী?
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ২০২৪ সালে এক দল ছাত্র-ছাত্রীর নেতৃত্বে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে যা দেশের প্রতিটি মানুষের আন্দোলন হয়ে গিয়েছিল। এটি এমন একটি আন্দোলন যা শিক্ষা, চাকরি এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে গড়ে উঠেছিল।
এই আন্দোলনের লক্ষ্য কী ছিল?
এই আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিক্ষা ও চাকরির ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করা এবং মেধাবী তরুণদের অধিকার রক্ষা করা।
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে কারা ছিলেন?
এই আন্দোলনের নেতৃত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ, শহীদ আবু সাঈদ, এবং প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা অগণিত ছাত্র ছাত্রী গণ।
এই আন্দোলনের ফলাফল কী হয়েছিল?
এই আন্দোলনের ফলে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদতাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। পরবর্তী সরকার শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো মেনে নিতে বাধ্য হয় এবং বৈষম্য দূর করার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা শুরু করে এবং শুরু হয় আমাদের আমাদের নতুন বাংলাদেশ এর যাত্রা।