হয়তো একসময় আমাদের কিছু অপূর্ণ ইচ্ছা সত্যিই পরিপূর্ণতা পাবে। যেসব চাওয়া নিয়ে এতদিন অপেক্ষা করেছি, যেসব স্বপ্নকে কখনো কাছে মনে হয়েছে আবার কখনো অসম্ভব—হয়তো কোনো একদিন সেগুলোর কিছুটা বাস্তব হয়ে উঠবে।
তবে তখন হয়তো সবকিছু আগের মতো থাকবে না।
যে মানুষগুলোকে পাশে পাওয়ার ইচ্ছে ছিল, তারা হয়তো বদলে যাবে। যে জায়গাটাকে একসময় নিজের মনে হতো, সেটাও হয়তো অচেনা লাগবে। আর সবচেয়ে বেশি বদলে যেতে পারি আমরা নিজেরাই।
তখন মনে প্রশ্ন আসতে পারে—এটাই কি সেই পূর্ণতা, যার জন্য এতদিন অপেক্ষা করেছিলাম?
সূচিপত্র
অপূর্ণতার মধ্যেও অপেক্ষা থাকে
অপূর্ণ ইচ্ছা নিয়ে বেঁচে থাকা সহজ নয়। কখনো মনে হয়, আর অপেক্ষা করার মতো শক্তি নেই। আবার কোনো এক অদৃশ্য আশায় নিজেকেই বোঝাই—সময় হয়তো এখনো শেষ হয়ে যায়নি।
জীবনে সবকিছু নিজের সময় অনুযায়ী আসে না। কিছু বিষয় দ্রুত পাওয়া যায়, কিছু পেতে অনেক বছর অপেক্ষা করতে হয়। আবার কিছু ইচ্ছা পূরণ হওয়ার আগেই আমাদের চাওয়ার ধরন বদলে যায়।
তবুও অপেক্ষার একটা মূল্য আছে।
অপেক্ষা আমাদের শুধু কোনো কিছু পাওয়ার জন্য প্রস্তুত করে না, বরং কী চাই এবং কেন চাই—সেটাও বুঝতে শেখায়।
সব চাওয়া পূরণ হলেই কি পূর্ণতা আসে?
আমরা অনেক সময় মনে করি, যেটা চাই সেটা পেয়ে গেলেই জীবন পূর্ণ হয়ে যাবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝতে পারি, চাওয়া আর পাওয়ার মাঝেও অনেক গল্প থাকে।
একসময় যে জিনিসটাকে জীবনের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন মনে হয়েছিল, কয়েক বছর পর সেটাই হয়তো আর তেমন গুরুত্বপূর্ণ থাকে না। আবার এমন কিছু বিষয় জীবনে আসে, যেগুলো কখনো চাওয়ার তালিকাতেই ছিল না—কিন্তু পরে সেগুলোই সবচেয়ে আপন হয়ে ওঠে।
তাই পূর্ণতা হয়তো শুধু সবকিছু পাওয়ার নাম নয়।
কখনো কখনো যা পেয়েছি, তার মূল্য বুঝতে শেখাটাও এক ধরনের পূর্ণতা।
আমার চাওয়া খুব বেশি নয়
দুনিয়ার কাছে আমার চাওয়া খুব বেশি নয়।
কিছু মানুষকে ভালো রাখতে চাই। যাদের ভালোবাসি, তাদের মুখে হাসি দেখতে চাই। নিজের জায়গা থেকে কিছুটা সফল হতে চাই। নিজের দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করতে চাই।
আর এমন একটা জীবন চাই, যেখানে খুব বেশি কিছু না থাকলেও মনে হবে—যা আছে, তা নিয়ে আমি শান্তিতে আছি।
হয়তো আমার সব ইচ্ছা পূরণ হবে না। হয়তো কিছু চাওয়া অপূর্ণই থেকে যাবে। কিন্তু যদি আমার কারণে প্রিয় কিছু মানুষের জীবনে সামান্য হলেও ভালো কিছু আসে, সেটাকেও আমি এক ধরনের পাওয়া মনে করব।
কারণ সব সুখ নিজের জন্য পাওয়ার মধ্যে নেই। কখনো কখনো অন্য কারও ভালো থাকার মধ্যেও নিজের ভালো থাকার একটা কারণ খুঁজে পাওয়া যায়।
ধৈর্য মানে সবকিছু মেনে নেওয়া নয়
জীবনে অনেক সময় আমরা অন্যের কথা ভেবে নিজের ইচ্ছাকে পিছিয়ে দিই। কখনো সম্পর্কের জন্য, কখনো পরিবারের জন্য, কখনো পরিস্থিতির কারণে।
আমি নিজেও হয়তো অনেকবার ভেবেছি—এবারও মেনে নিই। সময় গেলে হয়তো সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
সবকিছু মেনে নেওয়াই অবশ্য ধৈর্য নয়। তবে কিছু পরিস্থিতিতে একটু সময় দেওয়া, কিছু কথা না বলা, কিছু সিদ্ধান্ত তাড়াহুড়ো করে না নেওয়াও প্রয়োজন হয়ে পড়ে।
কারণ সবকিছুর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যায় না।
কিছু উত্তর সময় দেয়। কিছু উত্তর মানুষ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে খুঁজে নেয়। আর কিছু প্রশ্ন হয়তো উত্তর ছাড়াই থেকে যায়।
হয়তো একদিন…
হয়তো একদিন পেছনে ফিরে তাকিয়ে দেখব—যেসব ইচ্ছাকে একসময় অসম্ভব মনে হয়েছিল, সেগুলোর কিছু সত্যিই পূরণ হয়েছে।
কিন্তু তখন হয়তো আমি আগের মানুষটি থাকব না।
হয়তো আমার চাওয়াগুলো বদলে যাবে। হয়তো যাকে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম, তাকে পাওয়ার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে তার ভালো থাকা। হয়তো কোনো পুরোনো স্বপ্ন পূরণ হওয়ার পর বুঝব, এতদিন আমি আসলে শুধু স্বপ্নটির জন্য অপেক্ষা করিনি—অপেক্ষার মধ্যেই আমি নিজেকে অনেকটা বদলে ফেলেছি।
আর হয়তো কিছু ইচ্ছা কোনোদিনই পূরণ হবে না।
সেটাও মেনে নিতে হবে।
কারণ জীবনের সৌন্দর্য শুধু পূর্ণতার মধ্যে নয়; কিছু অপূর্ণতাও আমাদের সঙ্গে থেকে যায়। সেগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সবকিছু আমাদের ইচ্ছেমতো হওয়ার কথা নয়।
শেষ কথা
একসময় হয়তোবা অপূর্ণ ইচ্ছেগুলো পরিপূর্ণতা পাবে।
হয়তো সেই দিনটি অনেক দূরে। হয়তো খুব কাছেই।
কিন্তু তার আগে আমাদের বেঁচে থাকতে হবে, চেষ্টা করতে হবে, নিজের দায়িত্বগুলো পালন করতে হবে এবং সময়কে তার মতো করে এগোতে দিতে হবে।
আমি জানি না আমার সব ইচ্ছা পূরণ হবে কি না।
তবে এটুকু বিশ্বাস করতে চাই—যে ইচ্ছার পেছনে সত্যিকারের অনুভূতি, চেষ্টা আর ভালো কিছু করার আকাঙ্ক্ষা থাকে, তার প্রতিটি পথই কোনো না কোনোভাবে আমাদের কিছু শেখায়।
কিছু ইচ্ছা হয়তো দুনিয়াতেই পূর্ণতা পাবে।
কিছু হয়তো অপূর্ণই থেকে যাবে।
আর কিছু ইচ্ছার পূর্ণতা হয়তো আমরা এখনো চিনতেই পারিনি।