অপেক্ষার প্রহরে যে আমি নীরবতা পছন্দ করি আজকে তাকে জানাচ্ছি। কারণ আমি কিছু বলার যোগ্যতা রাখি নি।
সূচিপত্র
অপেক্ষার সময়টা কেমন, সেটা হয়তো সবাই বোঝে না।
কেউ অপেক্ষায় অস্থির হয়ে ওঠে, কেউ বারবার খবর নিতে চায়, আবার কেউ নিজের ভেতরেই চুপচাপ অপেক্ষা করে যায়।
আমি বোধহয় দ্বিতীয় ধরনের মানুষ।
অপেক্ষার প্রহরে আমি নীরবতা পছন্দ করি।
কারণ সব কথা বলা যায় না। আর কিছু কথা বলার অধিকারও হয়তো সবসময় থাকে না।
আজ সেই নীরবতার কথাই আপনাকে লিখছি।
আমি নীরবতা পছন্দ করি
প্রিয় মায়াবতী,
আপনি হয়তো জানেন না, অপেক্ষার সময় আমি খুব বেশি কথা বলতে পছন্দ করি না।
আপনাকে কখনো বলিনি।
হয়তো বলার মতো সাহস ছিল না, কিংবা মনে হয়েছে—কিছু অনুভূতি বলে দিলে তাদের সৌন্দর্যটাই নষ্ট হয়ে যায়।
তাই আপনাকে আমার কল্পনার ভেতর রেখেই আমি নীরব থেকেছি।
আপনি জানেন কি, নীরবতারও একটা ভাষা আছে?
সেখানে কোনো শব্দ থাকে না, অথচ অনেক কথা বলা হয়ে যায়।
অপেক্ষা করতে করতে কখনো মনে হয়, আপনাকে অনেক কিছু বলব। তারপর আবার মনে হয়, না—থাক।
সব কথা কি বলা জরুরি?
কিছু কথা হয়তো নিজের কাছেই রেখে দেওয়া ভালো।
তাই অপেক্ষার এই সময়টুকুতে নীরবতাকেই নিজের সঙ্গী করে নিয়েছি।
নীরবে আপনাকে খোঁজা
আপনাকে আমি নীরবে খুঁজি।
কোনো ভিড়ের মধ্যে নয়, কোনো নির্দিষ্ট জায়গায়ও নয়।
কখনো কোনো পরিচিত কথায়, কখনো কোনো পুরোনো স্মৃতিতে, কখনো আবার অকারণেই।
কোনো একটা মুহূর্ত হঠাৎ আপনাকে মনে করিয়ে দেয়।
তখন কিছুক্ষণ থেমে যাই।
ভাবি, আপনি কেমন আছেন?
আমাকে মনে পড়ে কি আপনার?
নাকি আমি শুধু নিজের মনেই আপনাকে এতটা কাছে নিয়ে এসেছি?
এসব প্রশ্নের উত্তর আমার জানা নেই।
তবুও প্রশ্নগুলো আসে।
আর আমি তাদের কোনো উত্তর না দিয়েই আবার নীরব হয়ে যাই।
কারণ জানি, অপেক্ষা মানেই শুধু কাউকে পাওয়ার আশা নয়।
কখনো কখনো অপেক্ষা মানে নিজের ভেতরের মানুষটাকেও চিনে নেওয়া।
অপেক্ষারও একটা সীমা আছে
একসময় মনে হয়েছিল, আপনার জন্য অপেক্ষা করাটা খুব কঠিন হবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে বুঝলাম, অপেক্ষার কষ্টের সঙ্গেও মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যায়।
প্রথম দিকে প্রতিটি মুহূর্ত দীর্ঘ মনে হয়।
তারপর দিন যায়।
সপ্তাহ যায়।
সময় নিজের নিয়মে এগিয়ে চলে।
আর মানুষও ধীরে ধীরে নিজের মনকে বুঝিয়ে নিতে শেখে।
আমি নিজেকেও সেভাবেই বুঝিয়েছি।
নিজেকে অন্য কাজে ব্যস্ত রেখেছি।
নিজের চিন্তাগুলোকে অন্যদিকে সরিয়ে নিয়েছি।
কারণ সারাক্ষণ অপেক্ষার মধ্যে ডুবে থাকলে হয়তো একদিন নিজের কাছেই নিজেকে হারিয়ে ফেলব।
আর আমি চাই না, আপনি কোনোদিন এমন একজন মানুষকে ফিরে পান, যে আপনাকে পাওয়ার অপেক্ষায় নিজেকেই হারিয়ে ফেলেছে।
আমি চাই, যদি কোনোদিন আমাদের দেখা হয়, তখনও যেন আমি আমি-ই থাকি।
কিছু অপেক্ষা নীরব থাকুক
আপনাকে পাওয়ার ইচ্ছা আছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আমি নিজেও পুরোপুরি জানি না।
তবে এটুকু জানি, কিছু অনুভূতিকে জোর করে কোনো নাম দিতে নেই।
কিছু সম্পর্কের কোনো সংজ্ঞা থাকে না।
কিছু মানুষ খুব কাছে না থেকেও মনের ভেতর অনেকটা জায়গা নিয়ে থাকে।
আপনিও হয়তো তেমনই একজন।
তাই আপনাকে নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।
আপনি আপনার মতো থাকুন।
আপনার জীবন আপনার মতো করে এগিয়ে যাক।
আমি শুধু আমার অপেক্ষাটুকু নিজের মতো করে বয়ে নিয়ে যাব।
হয়তো কোনো একদিন এই অপেক্ষার শেষ হবে।
হয়তো হবে না।
হয়তো কোনোদিন আপনি আমার সামনে এসে দাঁড়াবেন।
হয়তো দূরত্বটাই শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে।
আমি জানি না।
জানতেও চাই না।
কারণ কিছু উত্তর সময়ের হাতে ছেড়ে দেওয়াই ভালো।
শেষ চিঠি নয়
এই চিঠিটাকে শেষ চিঠি ভাববেন না।
আবার এটাকে কোনো প্রতিশ্রুতিও ভাববেন না।
এটা শুধু আমার মনের একটা নীরব কথা।
যে কথাটা আপনাকে বলা হয়নি, তাই চিঠির পাতায় রেখে দিলাম।
আপনি জানুন বা না জানুন, তাতে খুব বেশি কিছু বদলাবে না।
কারণ আমি এখন অপেক্ষা করতে শিখেছি।
নীরব থাকতে শিখেছি।
আর নিজের মনকে নিজের মতো করে সামলাতেও শিখছি।
তবুও কোথাও একটা ছোট্ট আশা হয়তো থেকে যাবে—
কোনো একদিন, কোনো এক অপ্রত্যাশিত মুহূর্তে, আমাদের পথ যদি আবার মিলে যায়।
সেদিন হয়তো এত কথা বলার দরকার হবে না।
শুধু একবার তাকালেই হয়তো বুঝে যাব—
এতদিনের অপেক্ষাটা একেবারে অর্থহীন ছিল না।
ততদিন পর্যন্ত নীরবতাই থাক।
অপেক্ষাটাও থাক।
আপনি ভালো থাকুন।
ইতি,
আপনার ইচ্ছে
আরও পড়ুন: ছোটবেলার হারিয়ে যাওয়া বান্ধবীকে চিঠি