তাকে কি পাবো আমি ?

তাকে কি পাবো আমি?

প্রশ্নটা খুব ছোট। কিন্তু এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে মনের ভেতর কত কথা জমে থাকে, তার কোনো হিসাব নেই।

কখনো মনে হয়, হয়তো একদিন সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে। আবার কখনো মনে হয়, কিছু মানুষকে যতটা কাছে চাই, জীবন হয়তো তাদের ততটা কাছে রাখে না।

তবুও অপেক্ষা করি।

হয়তো কোনো একদিন এই অপেক্ষারও একটা উত্তর পাওয়া যাবে।

তাকে পাওয়ার ইচ্ছে

আমি তাকে ভালোবেসেছি—এটা অস্বীকার করার মতো কিছু নয়।

তার হাসি, তার কথা বলার ধরন, তার কিছু ছোট ছোট অভ্যাস—এসব কখন যে আমার কাছে এতটা পরিচিত হয়ে উঠেছিল, বুঝতেই পারিনি।

একসময় মনে হয়েছিল, মানুষটাকে হয়তো আমার জীবনের একটা স্থায়ী অংশ হিসেবে পাওয়া সম্ভব।

কিন্তু ভালো লাগা আর বাস্তব জীবন এক জিনিস নয়।

মনের ইচ্ছা সবসময় পরিস্থিতির সঙ্গে মেলে না। কখনো নিজের ইচ্ছাকে পিছিয়ে দিতে হয়, কখনো সময়ের ওপর ছেড়ে দিতে হয়, আবার কখনো এমন কিছু মেনে নিতে হয়, যা মন থেকে মেনে নেওয়া সহজ নয়।

তবুও ইচ্ছেটা থেকে যায়।

তাকে কি পাবো আমি?

হারানোর ভয়

কাউকে পাওয়ার ইচ্ছার সঙ্গে তাকে হারানোর ভয়টাও হয়তো একই সঙ্গে জন্ম নেয়।

যাকে এতটা আপন মনে হয়, তাকে যদি শেষ পর্যন্ত নিজের করে না পাওয়া যায়—এই চিন্তাটা সহজ নয়।

কখনো মনে হয়, হয়তো পরিস্থিতি বদলাবে। মানুষ বদলাবে। সময় বদলাবে। হয়তো সেই পরিবর্তনের মধ্যেই আমাদের জন্যও কোনো একটা পথ তৈরি হবে।

আবার কখনো মনে হয়, পরিবর্তন মানেই সবকিছু আগের জায়গায় ফিরে আসা নয়।

কিছু পরিবর্তন মানুষকে কাছে আনে, কিছু পরিবর্তন দূরে নিয়ে যায়।

এই অনিশ্চয়তাটাই হয়তো সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।

অপেক্ষারও একটা ভাষা আছে

অপেক্ষা মানে শুধু দিনের পর দিন কারও জন্য বসে থাকা নয়।

কখনো অপেক্ষা মানে নিজের ভেতরে একটা সম্ভাবনাকে বাঁচিয়ে রাখা।

কখনো মনে মনে ভাবা—হয়তো কথা হবে।

হয়তো ভুল বোঝাবুঝি কমবে।

হয়তো দূরত্বটা একদিন কমে আসবে।

আবার কখনো অপেক্ষা মানে কোনো উত্তর না পেয়েও নিজের জীবনকে থামিয়ে না রাখা।

কারণ আমি জানি, শুধু অপেক্ষা করে থাকলেই কোনো মানুষকে পাওয়া যায় না।

দুজন মানুষের ইচ্ছা, সময়, পরিস্থিতি এবং সিদ্ধান্ত—সবকিছু মিলেই একটা সম্পর্কের পথ তৈরি হয়।

যদি না পাই?

এই প্রশ্নটাও আমাকে ভাবায়।

যদি শেষ পর্যন্ত তাকে না পাই?

যদি এতদিনের অপেক্ষার কোনো পরিণতি না থাকে?

হয়তো কষ্ট হবে।

হয়তো অনেকদিন মনে হবে, কিছু একটা অসম্পূর্ণ রয়ে গেল।

কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভালোবাসাটা অর্থহীন ছিল।

কোনো মানুষকে ভালোবেসে পাওয়া না গেলেও, সেই অনুভূতি আমাদের জীবনে সত্যি ছিল। সেই সময়টা সত্যি ছিল। সেই অপেক্ষা, সেই আনন্দ, সেই কষ্ট—সবই আমাদের জীবনের একটা অংশ হয়ে থাকে।

কিছু মানুষকে আমরা জীবনে পাই।

আর কিছু মানুষ আমাদের জীবনের একটা সময়কে অর্থপূর্ণ করে দিয়ে চলে যায়।

দুটোর কোনোটাকেই ছোট করে দেখার কারণ নেই।

তবুও একটা আশা থাকে

সবকিছু বুঝে নেওয়ার পরও মনের একটা জায়গায় আশা থেকে যায়।

হয়তো একদিন পরিস্থিতি আমাদের জন্য সহজ হবে।

হয়তো একদিন দুজন মানুষ নিজেদের জায়গা থেকে বুঝতে পারব, আসলে কী চেয়েছিলাম।

হয়তো আবার কথা হবে।

হয়তো কোনো একদিন পাশাপাশি বসে পুরোনো কথাগুলো মনে করে হাসব।

আবার এমনও হতে পারে, কিছুই হবে না।

এই দুই সম্ভাবনার মাঝেই হয়তো আমার অপেক্ষা।

তবে এখন আমি শুধু তাকে পাওয়ার জন্য নিজের জীবন থামিয়ে রাখতে চাই না। কারণ ভালোবাসা যদি সত্যিই ভালোবাসা হয়, তাহলে সেখানে অন্য মানুষটির স্বাধীনতা, সিদ্ধান্ত এবং ভালো থাকাটাও গুরুত্বপূর্ণ।

তাকে কি পাবো আমি?

সত্যি বলতে, আমি জানি না।

এই মুহূর্তে এর উত্তর আমার কাছে নেই।

হয়তো সময় একদিন উত্তরটা দিয়ে দেবে।

হয়তো উত্তরটা আমার প্রত্যাশার মতো হবে না।

তবুও প্রশ্নটা হয়তো অনেকদিন আমার সঙ্গে থাকবে—

তাকে কি পাবো আমি?

হয়তো পাবো।

হয়তো পাবো না।

কিন্তু এখন আমি এটুকুই চাই—যদি কখনো তাকে পাওয়ার সুযোগ আসে, সেটা যেন দুজনের ইচ্ছেতেই আসে। আর যদি না আসে, তাহলে তার জন্য আমার মনে কোনো অভিযোগ না থাকে।

কারণ কাউকে ভালোবাসা মানেই তাকে নিজের করে পাওয়া নয়।

কখনো কখনো ভালোবাসার সবচেয়ে কঠিন অংশ হলো—কাউকে নিজের জীবনে চেয়েও তার নিজের পথ বেছে নেওয়ার অধিকারটুকু মেনে নেওয়া।

Leave a Comment