তোমাকে অনেক বিরক্ত করি তাই না ?

তোমাকে অনেক বিরক্ত করি, তাই না?

আসলে তোমাকে অনেক আপন মনে করি বলেই হয়তো এতটা বিরক্ত করি। এতটা আপন করে না ভাবলে হয়তো কখনোই বারবার তোমার কাছে ফিরে আসতাম না।

কাউকে নিজের মানুষ মনে না হলে তার কাছে এত কথা বলতে ইচ্ছে করে না। তার অভিমান, রাগ কিংবা দূরত্বও এতটা মনে লাগে না।

হয়তো সেই কারণেই তোমাকে এতটা বিরক্ত করেছি।

আর হয়তো এ কারণেই একসময় সবকিছু বদলে গেল।

বারবার ফিরে যাওয়া

তুমি আমাকে বারবার ফিরিয়ে দিয়েছো।

তারপরও আমি ফিরে গিয়েছি।

কখনো নিজের অজান্তেই, কখনো জেনেশুনে।

মনে হয়েছে, আরেকবার যদি বুঝিয়ে বলতে পারি, হয়তো তুমি বুঝবে। আরেকবার যদি বলি, তুমি আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, হয়তো এবার কথাগুলো তোমার মনে পৌঁছাবে।

তাই ফিরে গেছি।

কথা বলেছি।

বোঝানোর চেষ্টা করেছি।

কখনো হয়তো তোমার কাছে আমার এই ফিরে আসাটা বিরক্তিকর মনে হয়েছে। কখনো আমার কোনো কথায় তুমি রেগে গেছো। কখনো হয়তো আমাকে ভুলও বুঝেছো।

কিন্তু আমার দিক থেকে দেখলে, আমি আসলে বিরক্ত করতে চাইনি।

আমি শুধু হারিয়ে যেতে চাইনি।

তোমাকে নিজের জীবনে যতটা আপন করে নিয়েছিলাম, সেখান থেকে হঠাৎ করে দূরে সরে যাওয়াটা আমার জন্য এত সহজ ছিল না।

তাই বারবার ফিরে এসেছি।

হয়তো একটু বেশি।

হয়তো তোমার সহ্যের সীমার চেয়েও বেশি।

নিজেকে বুঝিয়ে নেওয়া

একদিন মনে মনে তোমার সঙ্গে একটা কথোপকথন করেছিলাম।

বলেছিলাম—

“তোমাকে অনেক বিরক্ত করি, তাই না?”

উত্তরটা খুব সহজ ছিল।

“হ্যাঁ।”

সেদিন কথাটা খুব সাধারণ মনে হলেও, পরে বুঝলাম এর ভেতরে আমার জন্য অনেক বড় একটা উত্তর ছিল।

নিজেকেই বললাম—

ঠিক আছে।

এবার আর বিরক্ত করব না।

আর কোনো ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করব না। বারবার ফিরে যাব না। নিজের অনুভূতিগুলো বোঝানোর জন্য তোমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকব না।

তারপর ধীরে ধীরে নীরবতাকে নিজের করে নিলাম।

প্রথম দিকে খুব কষ্ট হতো।

কথা বলতে ইচ্ছে করত।

অনেক কিছু বলতে চেয়েও চুপ করে থাকতাম।

তোমাকে মেসেজ লিখে আবার মুছে ফেলেছি কতবার, তার হিসাব নেই।

তারপর একসময় অভ্যাস হয়ে গেল।

নীরব থাকা শিখে গেলাম।

তখন মাঝে মাঝে তোমার আগের রূপটাকে খুঁজতাম। সেই পরিচিত মানুষটাকে, যার সঙ্গে এত কথা বলতে ইচ্ছে করত।

কিন্তু কোথাও খুঁজে পেতাম না।

হয়তো তুমি বদলে গিয়েছিলে।

অথবা হয়তো আমিই তোমাকে আগের মতো করে দেখতে পারছিলাম না।

আজ যদি তুমি আমার আগের আমিটাকে খুঁজে থাকো, তাহলে হয়তো একটা কথা বলার আছে—

এবার আমিই সেই মানুষটাকে হারিয়ে ফেলেছি।

ইচ্ছে করে নয়।

নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।

কারণ তোমাকে ছাড়া নিজের মনকে বোঝাতে হলে, আগের আমিটাকে কোথাও না কোথাও হারিয়ে ফেলতেই হতো।

নতুন কোনো শুরু হবে কি?

তবুও তোমাকে নিয়ে সব আশা হয়তো একদিনে শেষ হয়ে যায়নি।

মানুষ চাইলেই কি এত সহজে নিজের অনুভূতিগুলো মুছে ফেলতে পারে?

তাই ভবিষ্যৎ কী হবে, আমি জানি না।

হয়তো আর কখনো তোমার কাছে ফিরব না।

আবার হয়তো কোনো একদিন ফিরব।

তবে যদি কখনো ফিরি, তাহলে আগের মতো করে নয়।

ফিরলে পুরোপুরি ফিরব।

কোনো দ্বিধা নিয়ে নয়, কোনো “যদি” নিয়ে নয়।

অবশ্য এখন আমি কাউকে নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখার অবস্থায় নেই।

মনের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে শুধু ভালো থাকার অভিনয় করতেও চাই না।

আগে সম্পর্কের কথা ভাবলে “যদি” শব্দটা কখনো মাথায় আসত না।

এখন আসে।

আগে মনে হতো, কিছু একটা হবে।

এখন মনে হয়—

হয়তো হবে, হয়তো হবে না।

জীবনে কিছু প্রশ্নের উত্তর সময়ের কাছেই রেখে দিতে হয়।

তাই এখন আর কোনো উত্তর খুঁজছি না।

চুপ করে আছি।

হয়তো নীরবতার মধ্যেই কোনো একদিন একটা পথ তৈরি হবে।

এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

কিছু কষ্ট নীরবই থেকে যায়

তোমার জন্য আমার মনের ভেতর ভালোবাসা ছিল।

এখনও হয়তো আছে।

আশাও ছিল।

হয়তো খুব বেশি কিছু চাইনি। শুধু চেয়েছিলাম, আমার অনুভূতিটুকু তুমি বুঝতে পারো।

হয়তো আমি তোমার কাছে সেই মানুষ হওয়ার মতো যোগ্য ছিলাম না।

হয়তো নিজেকে প্রমাণ করতে গিয়েই বারবার হেরে গেছি।

কখনো কখনো মনে হয়েছে, প্রতিটা মুহূর্ত আমাকে নতুন করে বুঝিয়ে দিচ্ছে—সব চাওয়া পূরণ হয় না।

সব ভালোবাসার শেষ একসঙ্গে হওয়াও নয়।

আমি নীরব আছি বলে হয়তো তোমার মনে হতে পারে, আমি ভালো আছি।

হয়তো মনে হতে পারে, সবকিছু ভুলে গেছি।

আসলে তা নয়।

কিছু কষ্ট বাইরে থেকে বোঝা যায় না।

কিছু অভিমান কাউকে বলা যায় না।

আর কিছু মানুষকে ভুলে যাওয়ার চেয়ে, তাদের ছাড়া বেঁচে থাকার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই হয়তো কঠিন।

আমি জানি না আমাদের মধ্যে এত দূরত্বের কারণ ঠিক কী।

জীবনের পার্থক্য?

সময়ের পরিবর্তন?

নাকি আমাদের দুজনের চাওয়া ধীরে ধীরে আলাদা হয়ে যাওয়া?

আমি জানি না।

শুধু এটুকু জানি—

তোমার প্রতি আমার কোনো খারাপ চাওয়া নেই।

তুমি ভালো থাকো।

খুব ভালো থাকো।

আমার জীবনে তোমার অবস্থান যাই হোক না কেন, তোমার ভালো থাকাটা আমি সবসময়ই চাইব।

শেষ কথাটা হয়তো অপেক্ষাই

কখনো কখনো মানুষ কাউকে হারিয়েও তার জন্য খারাপ কিছু চায় না।

দূরে থেকেও তার ভালো থাকার খবর জানতে ইচ্ছে করে।

কথা না বলেও মনে মনে তার জন্য দোয়া আসে।

হয়তো ভালোবাসার সব গল্পের শেষ একসঙ্গে হওয়া নয়।

কিছু গল্পের শেষ হয় দূরত্বে।

কিছু গল্প থেমে যায় নীরবতায়।

আর কিছু গল্পের কোনো নির্দিষ্ট শেষ থাকে না—শুধু সময়ের সঙ্গে তারা অন্যরকম হয়ে যায়।

আমাদের গল্পটা কোন দিকে যাবে, আমি জানি না।

হয়তো কোনোদিন আবার পথ মিলে যাবে।

হয়তো আর কখনোই নয়।

তবুও যদি কোনোদিন ফিরে আসি, চাইব সেদিন আর কোনো ভুল বোঝাবুঝি না থাকুক।

কোনো অভিমান না থাকুক।

কোনো প্রশ্ন না থাকুক।

শুধু দুজন মানুষ থাকুক—যারা একসময় একে অপরকে খুব আপন ভেবেছিল।

আর যদি কখনোই ফিরে আসা না হয়, তবুও তোমার জন্য আমার একটা চাওয়া থাকবে—

ভালো থেকো।

আমার কথা মনে পড়ুক বা না পড়ুক, তুমি ভালো থেকো।

কারণ একসময় তোমাকে অনেক আপন ভেবেছিলাম।

আর কিছু মানুষকে ভালোবাসার পর, তাদের জন্য ভালো কিছু চাওয়াটা অভ্যাস হয়ে যায়।

হয়তো সেই অভ্যাসটা সহজে বদলায় না।

আর আমি?

আমি নীরব থাকব।

নিজেকে বুঝিয়ে নেব।

তারপর জীবন যেদিকে নিয়ে যাবে, সেদিকেই হাঁটব।

তবুও মনের একেবারে গভীরে হয়তো একটা ছোট্ট আশা থেকে যাবে—

কোনো একদিন, কোনো এক অচেনা সময়ে, আমাদের পথ আবার মিলেও যেতে পারে।

Leave a Comment