বড় স্বপ্ন দেখি আমি।
ব্যর্থ হলে মন খারাপ হবে, অবশ্যই হবে।
কিন্তু ব্যর্থতাকে এখন আর শেষ বলে মনে হয় না।
কারণ এর আগেও অনেকবার ব্যর্থ হয়েছি। অনেকবার কোনো কিছু শুরু করে মাঝপথে থেমেছি। আবার নতুন করে শুরু করেছি। কখনো একই জায়গা থেকে, কখনো একেবারে অন্য জায়গা থেকে।
হয়তো এ কারণেই আজও স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই না।
সূচিপত্র
আবার শুরু করার অভ্যাস
জীবনে সবকিছু নিজের পরিকল্পনামতো হয় না।
কখনো মনে হয়েছে একটা পথই আমার জন্য ঠিক।
কিছুদিন পর বুঝেছি, পথটা হয়তো আমার জন্য নয়।
কখনো খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়েছি। আবার কখনো নিজের সিদ্ধান্ত নিয়েই সন্দেহ হয়েছে।
সমালোচনা শুনেছি।
প্রশংসাও পেয়েছি।
কখনো মনে হয়েছে আমি পারব।
আবার কখনো মনে হয়েছে—হয়তো আমার দ্বারা হবে না।
তবুও থেমে থাকিনি।
হোঁচট খেয়ে কিছুদিন বসে থেকেছি, তারপর আবার উঠেছি।
কারণ একটা সময় বুঝেছি, পড়ে যাওয়া যতটা স্বাভাবিক, পড়ে থাকার সিদ্ধান্তটাই আসলে বড় সমস্যা।
অসাধারণ হওয়ার চেয়ে নিজের মতো থাকা
একসময় আমারও মনে হতো, জীবনে অসাধারণ কিছু করতেই হবে।
অন্যদের থেকে আলাদা হতে হবে।
অনেক দূর যেতে হবে।
অনেক কিছু অর্জন করতে হবে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই ভাবনাটা কিছুটা বদলেছে।
এখন মনে হয়, অসাধারণ হওয়ার চেষ্টার মধ্যেও যদি নিজের শান্তিটা হারিয়ে ফেলি, তাহলে সেই অর্জনের মূল্য কোথায়?
অসাধারণ মানুষের ভিড়ে একজন সাধারণ মানুষ হয়ে নিজের মতো করে বেঁচে থাকাও সহজ নয়।
নিজের দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করা।
নিজের ভুলগুলো মেনে নেওয়া।
পরিবারের পাশে থাকা।
নিজের পছন্দের কিছু কাজ করার সুযোগ রাখা।
দিন শেষে নিজের জীবনটাকে নিজের কাছে অর্থপূর্ণ মনে হওয়া—
এসবও তো কম কিছু নয়।
সমাজ কী বলবে?
তবুও সমাজের কথাটা মাথায় আসে।
মানুষ কী বলবে?
কেন এখনো এটা করতে পারলাম না?
কেন ওই জায়গায় পৌঁছাতে পারলাম না?
কেন অন্যদের মতো হতে পারলাম না?
এই প্রশ্নগুলো কখনো কখনো নিজের প্রশ্নের চেয়েও বেশি কঠিন হয়ে ওঠে।
একসময় হয়তো মনে হয়েছে—
আমি কি পিছিয়ে পড়ছি?
আমি কি ভুল পথে হাঁটছি?
আমি কি আমার যোগ্যতার চেয়ে বড় কিছু চাইছি?
কখনো চারপাশের মানুষের সাফল্য দেখে নিজের অবস্থান নিয়েও অস্বস্তি হয়েছে।
কিন্তু তারপর আবার নিজেকেই মনে করিয়েছি—
অন্য কারও সময়ের সঙ্গে নিজের সময়ের তুলনা করে নিজের জীবনকে বিচার করা যায় না।
কারও পথ দ্রুত শেষ হচ্ছে বলে আমার পথও একই গতিতে শেষ হতে হবে—এমন কোনো নিয়ম নেই।
বড় স্বপ্ন দেখার ভয়
আমার একটা সমস্যা আছে।
আমি মাঝে মাঝে নিজের সামর্থ্যের চেয়েও বড় স্বপ্ন দেখে ফেলি।
বাস্তবতা যতটুকু অনুমতি দেয়, তার চেয়ে একটু দূরে তাকাতে ইচ্ছে করে।
জানি না সেটা সাহস, নাকি দুঃসাহস।
কখনো মনে হয়, এত বড় কিছু ভাবছি কেন?
যদি না পারি?
যদি আবার ব্যর্থ হই?
যদি মানুষ হাসে?
যদি যারা আমার ওপর বিশ্বাস করেছে, তাদের সেই বিশ্বাস রাখতে না পারি?
এই প্রশ্নগুলো আসে।
বারবার আসে।
কিন্তু সব প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে পাওয়া সম্ভব নয়।
কিছু উত্তর পথ চলতে চলতেই পাওয়া যায়।
ভুল করলাম আবার?
আমার সবচেয়ে বড় ভয় হয়তো ব্যর্থতা নয়।
ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।
কিছু করার পর মনে হওয়া—এটা কি করা উচিত ছিল?
কখনো কাজ করার পর ফলাফল নিয়ে ভাবি।
তারপর নিজের কাছেই প্রশ্ন করি—
ভুল করলাম আবার?
হয়তো করেছি।
মানুষ হিসেবে ভুল করবই।
সব সিদ্ধান্ত সঠিক হবে না।
সব পরিকল্পনা সফল হবে না।
কিন্তু প্রতিটি ভুলের পর যদি কিছু শিখতে পারি, তাহলে সেই ভুলটাকে পুরোপুরি ব্যর্থতা বলতে ইচ্ছে করে না।
কারণ কিছু শিক্ষা সফলতার চেয়ে অনেক বেশি স্থায়ী হয়।
তবুও বিশ্বাস আছে
এত দ্বিধা, এত প্রশ্ন, এত ব্যর্থতার পরও আমার ভেতরে একটা বিশ্বাস রয়ে গেছে।
হয়তো সবকিছু আমার ইচ্ছেমতো হবে না।
হয়তো যে স্বপ্নটা দেখছি, তার পুরোটা কখনো বাস্তব হবে না।
হয়তো পথটা অনেক দীর্ঘ হবে।
তবুও চেষ্টা করতে ইচ্ছে করে।
কারণ স্বপ্ন শুধু ফলাফল পাওয়ার জন্য নয়।
কিছু স্বপ্ন আমাদের বদলে দেয়।
আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে।
আরও ধৈর্যশীল করে।
নিজের সীমাবদ্ধতাগুলো চিনতে শেখায়।
আর কখনো কখনো এমন একজন মানুষকে নিয়েও স্বপ্ন দেখা হয়, যার সঙ্গে নিজের ভবিষ্যৎটা ভাগ করে নিতে ইচ্ছে করে।
সেখানেও নিশ্চয়তা থাকে না।
তবুও বিশ্বাস থাকে—দুজন মানুষ যদি সত্যিই একে অপরকে বুঝতে পারে, তাহলে সাধারণ জীবনটাও সুন্দর হতে পারে।
স্বপ্নটা আমারই
আজ আমি জানি না, কয়েক বছর পর কোথায় থাকব।
কী অর্জন করব।
কতটা সফল হব।
কতবার আবার শুরু করতে হবে।
সবকিছুর উত্তর আমার জানা নেই।
শুধু এটুকু জানি—
আমি আমার স্বপ্নগুলোকে শুধু এই কারণে ছোট করতে চাই না যে সেগুলো বড়।
বাস্তবতা বুঝব।
নিজের সীমাবদ্ধতা মেনে নেব।
প্রয়োজনে পরিকল্পনা বদলাব।
ভুল হলে স্বীকার করব।
ব্যর্থ হলে আবার শুরু করব।
কিন্তু শুধু অন্যরা কী ভাববে, সেই ভয়ে নিজের ইচ্ছেগুলোকে একেবারে মেরে ফেলতে চাই না।
কারণ জীবনটা শেষ পর্যন্ত আমার।
আর সেই জীবনের কিছু স্বপ্নও আমারই।
শেষ কথা
বড় স্বপ্ন দেখি আমি।
কারণ আমি জানি, সব স্বপ্ন পূরণ হবে না।
তবুও কিছু স্বপ্ন দেখা দরকার।
কিছু স্বপ্ন আমাদের চেষ্টা করতে শেখায়।
কিছু স্বপ্ন ব্যর্থতার পরও আবার উঠে দাঁড়াতে শেখায়।
আর কিছু স্বপ্ন হয়তো শেষ পর্যন্ত পূরণ হবে না, কিন্তু সেই স্বপ্নের পেছনে হাঁটতে গিয়ে আমরা এমন একজন মানুষ হয়ে উঠি, যে আগের চেয়ে একটু বেশি পরিণত, একটু বেশি ধৈর্যশীল।
তাই আজও ব্যর্থতার ভয় আছে।
অনিশ্চয়তা আছে।
ভুল করার ভয় আছে।
তবুও স্বপ্ন আছে।
বড় স্বপ্ন দেখি আমি।
হয়তো সবটা পারব না।
হয়তো আবারও পড়ে যাব।
তবুও এবারও উঠে দাঁড়াব।
কারণ আমার কাছে সফলতা মানে শুধু স্বপ্ন পূরণ হওয়া নয়—
স্বপ্নটা সত্যি করার জন্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে যাওয়া।