মন নিয়ে বন্ধুর সাথে কথোপকথন হয়েছিল অনেক ভালো বন্ধুর সাথে। তাকে অনেক কথাই বললাম এবং জানলাম তার অব্যক্ত অনেক কথা।
মন নিয়ে এরকম বন্ধুর সাথে কথোপকথন মনের কষ্ট লাঘবে সাহায্য করেছে অনেক বার।
জীবনের পথে চলতে চলতে আমরা অনেক সময় এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হই যখন আমাদের মনের কথা বলার জন্য একজন বন্ধুর প্রয়োজন হয়।
সেই সময়ের কথা মনে করে দেখা যায়, বন্ধুদের সাথে মনের কথা শেয়ার করা আমাদের মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে কতটা সহায়ক হতে পারে।
এই ব্লগ পোস্টে আমি একটি বিশেষ বন্ধুর সাথে মন খুলে কথা বলার অভিজ্ঞতা শেয়ার করব, যা আমার মনের কষ্ট লাঘবে সহায়ক হয়েছে।
সূচিপত্র
মন নিয়ে বন্ধুর সাথে কথোপকথন
প্রাথমিক কথোপকথন
বন্ধু: – কি অবস্থা তোমার?
আমি: – এইতো আছি আলহামদুলিল্লাহ। তোমার কি খবর?
বন্ধু: – আমিও আছি লিখালিখি আর ভিডিও তৈরি করার মধ্য দিয়ে।
আমি: – আমি কিছুই না সারাদিন ঘুরি ফিরি খাই।
বন্ধু: – আমিও খাওয়া দাওয়ার উপর কোনো নিয়ন্ত্রণ আনতে পারছি না। ভয় হয় যে ডায়াবেটিস না হয়ে যায়।
আমি: – কিছু মানুষ টেনশনে থাকলে বা ডিপ্রেশনে থাকলে বেশি খায়। টেনশন কি বেশি?
বন্ধু: – না অতটা না। তবে নিজের সিদ্ধান্তগুলোর জন্য আজ আর এই অবস্থা। মাঝে মাঝে ওভারথিংকিং হয়। আবার ঠিক হয়ে যায়।
পরিবর্তনের প্রভাব
আমি: – হ্যাঁ। মাঝে মাঝে না নিজের চেঞ্জ হয়ে যাওয়ার জন্য অনেক আফসোস হয়। আমি যদি ২০১৮ সালের আমি থাকতাম তাহলে অনেক ভালো হতো সবার জন্য।
বন্ধু: – হুম, দিন যাবে সময় যাবে সবকিছু চেঞ্জ হবে এটাই নিয়ম। আগের সময়গুলো আসলেই ভালো ছিল।
আমি: – হ্যাঁ। কিছু পরিবর্তন মেনে নেয়া কঠিন।
বন্ধু: – হুম, আসলেই।
সম্পর্ক এবং অনুভূতি
আমি: – তবে আরো কিছু চেঞ্জ মাথায় আসা উচিত। যেমন, আমি একটা কথা যদি কাউকে বলি সেটা সে কিভাবে গ্রহণ করবে, মন খারাপ করবে কিনা। আর কেউ আমাকে একটা কথা বললে সেটার মাঝে কোনো কষ্ট লুকিয়ে আছে কিনা। অর্থাৎ সে কি কারণে কথা টা বললো তা বোঝার চেষ্টা করা।
বন্ধু: – এইটাই ইন্ট্রোভার্টদের সমস্যা। নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে না। তবে অপর পাশের মানুষকে নিয়ে তারা ঠিকই ভাবে। কিন্তু সেটা প্রকাশ করে না। অথচ মানুষটা ভাবে তার মনের কথা বোঝার ক্ষমতাই নাই।
আমি: – একদম। ১০০% সত্য।
বন্ধু: – হুম, তবে অপর পাশের মানুষগুলো যে অভিমান করে। আমি মনে করি তাদের শুধু নিজেদের কথা না, ইন্ট্রোভার্ট সেই মানুষটার কথাও ভাবা উচিত। আর সেটা অনুযায়ী মনের ভাবগুলো প্রকাশ করা উচিত।
ইন্ট্রোভার্টদের সমস্যা এবং সমাধান
আমি: – আর এই ইন্ট্রোভার্ট মানুষদের মধ্যে যারা একটু খারাপ সময় গেলে মেনে নিতে পারে না তাদের জীবনের অন্য কাজগুলোতে কোনো আগ্রহ থাকে না।
বন্ধু: – হুম, তারা ভেঙে পড়ে, বেশি ওভারথিংক করে।
আমি: – অভিভাবকদের সবাই মনে করে ছেলে/মেয়ে বেআদবি করছে। ইচ্ছা করে কথা শুনছে না। আসল কারণটা কেউ জানে না।
বন্ধু: – হুম, তাদের কাছে প্রকাশ করা যায় না। আর করলেও তারা তেমন গুরুত্ব দেয় না।
আমি: – আসলে নিজের একান্ত স্বপ্ন ভেঙে যেতে দেখলে অন্যের স্বপ্ন পূরণ করার মত মানসিক অবস্থা খুব সহজে আসে না। এইটা কেউ বুঝবে না।
বন্ধু: – মানুষের কাছে হয়তো হাস্যকর তবে যারা এগুলো ফেইস করে তারা জানে কতটা পেইন দেয় এইসব বিষয়।
আমি: – হুম, তবে দিন শেষে নিজেকে একটাই কথা বলি, “তুমি ধৈর্য রাখো। এর চেয়ে আরো কঠিন সময় আসতেও পারে।”
বন্ধু: – হ্যাঁ, তার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে আর সবচেয়ে বড় কথা আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।
লেখালেখির প্রভাব
আমি: – একটা বিষয় কি জানো? এইভাবে লিখে কথা শেয়ার করতে পারি। কিন্তু ফোন কল এ কিংবা সামনা সামনি কখনও কারো সাথে এভাবে মুখে আসল অনুভূতি গুলো বলা যায় কিনা জানিনা।
বন্ধু: – হুম, ইন্ট্রোভার্ট যারা তারা চ্যাটিং করে বা লেখালেখি করে মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। সামনাসামনি বলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায় বেশ।
আমি: – আচ্ছা, ভালো থেকো। জীবনের ভালো মুহূর্তে বেড়ে যাবে ইন শা আল্লাহ্।
বন্ধু: – ইন শা আল্লাহ্ তুমিও ভালো থেকো। আল্লাহ্ যেন তোমার সবকিছু সহজ করে দেন।
সমাপ্তি
এই ছিল ওই দিনের মত মন নিয়ে বন্ধুর সাথে কথোপকথন এর সমাপ্তি। এই ধরনের কথোপকথন আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং আমাদের জীবনের নানা দিক নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শিখায়।
পরবর্তী কথোপকথন – প্রায় দুই দশক অপেক্ষার পর আমাদের দেখা হলো
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলি
কেন বন্ধুর সাথে মনের কথা শেয়ার করা গুরুত্বপূর্ণ?
বন্ধুর সাথে মনের কথা শেয়ার করা মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক। এটি আমাদের মানসিক চাপ কমায় এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
ইন্ট্রোভার্ট মানুষদের জন্য কি ধরনের সমস্যা হতে পারে?
ইন্ট্রোভার্ট মানুষরা সাধারণত নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে না, যা তাদের মধ্যে মনোকষ্ট এবং ওভারথিংকিং এর সমস্যা তৈরি করতে পারে।
ইন্ট্রোভার্ট মানুষরা কিভাবে তাদের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে?
ইন্ট্রোভার্ট মানুষরা লেখালেখি বা চ্যাটিং এর মাধ্যমে তাদের মনের ভাব প্রকাশ করতে পারে। এটি তাদের জন্য সহজ হতে পারে।